
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৫: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নে প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত যুবক জাহিদের পরিবার। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতার ভাগ্নে ও তার সহযোগীদের দ্বারা পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় জাহিদকে। দীর্ঘ ছয় দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার পরিবার।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত জাহিদের পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহিদের মা।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ডয়েসের ভাগ্নে শাওন ফোন করে দিনমজুর জাহিদকে কাজের কথা বলে ডেকে নেয়। বলা হয়েছিল, ডয়েসের দোকানে সিমেন্ট নামাতে হবে। জাহিদ তার বন্ধু নাফিজ বেপারী ওরফে জান্নাতকে সাথে নিয়ে সেখানে গেলে তাদেরকে একটি বাড়িতে আগুন দিতে বলা হয়। জাহিদ ও তার বন্ধু এই অন্যায় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শাওন ও তার সাথে থাকা মুখোশধারী ৭-৮ জন সহযোগী জাহিদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় জাহিদের বন্ধু জান্নাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অগ্নিদগ্ধ জাহিদ পাশের একটি আমবাগানে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার বড় ভাই ও জান্নাত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ সেপ্টেম্বর জাহিদ মারা যান। মৃত্যুর আগে জাহিদ এক ভিডিও বার্তায় সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যান বলে পরিবার দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদের পরিবার মামলার তদন্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা অভিযোগ করে, মামলার প্রধান আসামি শাওন এক বছর ধরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। প্রাথমিক তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাবশালী আসামিদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, মূল হোতাদের বাদ দিয়ে একটি দুর্বল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
জাহিদের পরিবারের ভাষ্যমতে, তারা এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন জানালে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। পরিবার দাবি করেছে, অভিযোগপত্রে মালেক দেওয়ান, নাজমা বেগম, এমদাদুল দেওয়ান, রতন দেওয়ান, মোতালেব শিকদার, রুমন আলী, চয়ন রাব্বি দেওয়ান এবং মোসলেম উদ্দিন পায়েলসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। অন্যায় করতে রাজি হয়নি বলেই তাকে পুড়িয়ে মারা হলো। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।" তিনি আরও জানান, মামলার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
বর্তমানে মামলাটি সিআইডির অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে। জাহিদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.