
গাজী মনিরুজ্জামান,খুলনা জেলা প্রতিনিধি (৩০/১০/২৫)
খুলনা জেলা নতুন কারাগারের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ১০০ বন্দি স্থানান্তর করে যাত্রা করতে যাচ্ছে পুরাতন কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নেওয়া হবে বাকি বন্দিদের। খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপারিনটেনডেন্ট নাসির উদ্দিন প্রধান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আধুনিক কারাগারের প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নাসির উদ্দিন প্রধান আরো বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ নভেম্বর (শনিবার) আধুনিক কারাগারে বন্দিদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে এক-দুই দিন পিছিয়ে যেতে পারে। নতুন কারাগারে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলার বন্দি এবং পুরানো কারাগারে খুলনা মহানগরীর বন্দিদের রাখা হবে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরাতন কারাগারকে মেট্রোপলিটন কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
খুলনা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয় ২০১১ সালে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এরপর ৮ বার প্রকল্পের সময় বেড়েছে, দুই দফা সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৮৮ কোটি টাকা। খুলনা সিটি (রূপসা সেতু) বাইপাস সড়কে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নতুন কারাগার নির্মাণ হচ্ছে। মাস্টারপ্লান অনুযায়ী নতুন কারাগারে ৪ হাজার বন্দি থাকতে পারবে। আপাতত ২ হাজার বন্দি রাখার অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, কারাগারের ভেতরে পুরুষ, নারী ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক ব্যারাক রয়েছে। এর বাইরে কিশোর, শ্রেণিপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য পৃথক ভবন, ফাঁসির মঞ্চ, নারীদের ডে কেয়ার সেন্টার, পৃথক ওয়ার্ক সেড ও বিনোদন কেন্দ্র, ৪টি রান্না ঘর, পুরুষদের মোটিভেশন সেন্টার, জেল লাইব্র্রেরি, স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া পুরুষ ও নারী কারারক্ষীদের জন্য একাধিক কোয়ার্টার, প্রশাসনিক ভবন, সেলুন, লন্ড্রিসহ ৫২টি স্থাপনা রয়েছে।
খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, বন্দিদের প্রতিটি ব্যারাকের চারপাশে পৃথক সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এক শ্রেণির বন্দিদের অন্য শ্রেণির বন্দিদের সঙ্গে মেশার সুযোগ নেই। কারাগারের ভেতরে শুধু সীমানা প্রাচীরই রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে। ভেতরে ড্রেন, ফুটপাত, নিজস্ব পয়ঃ বর্জ্য শোধন কেন্দ্র, ওয়াকওয়ে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, দুটি পুকুর ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সবকিছুর কাজ শেষ।
খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপারিনটেনডেন্ট নাসির উদ্দিন প্রধান জানান, নতুন এ কারাগার নির্মাণ হচ্ছে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থানে রাখা হবে। কিশোর ও কিশোরী বন্দিদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যারাক। নারীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও ওয়ার্কশেড আছে। একইভাবে বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকবে।
আরও থাকবে কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল, বিশাল লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি। কারাগারে শিশুসন্তানসহ নারী বন্দিদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে- কেয়ার সেন্টার। এ ওয়ার্ডটিতে সাধারণ নারী বন্দি থাকতে পারবেন না। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার ব্যবস্থা থাকবে। কারাগারে পুরুষ ও নারী বন্দিদের হস্তশিল্পের কাজের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯১২ সালে খুলনা মহানগরীর ভৈরব নদের তীরে নির্মাণ করা হয় খুলনার প্রথম কারাগার। সেখানে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৬৭৮ জনের। বর্তমানে খুলনার পুরাতন কারাগারে ১ হাজার ৪০০ এর অধিক বন্দি রয়েছে। ১১৩ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হয় বন্দিদের। এসব বিবেচনায় নিয়েই নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মুনীর হোসাইন বলেন, নবনির্মিত খুলনা জেলা কারাগারের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দিদের ৬ তলা ভবন ও প্রধান ফটকের দায়িত্ব নিয়েছে কারারক্ষীরা। এজন্য বাইরের কাউকে কারাগারের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ভবন যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়েছে। জেলার মুনীর হোসাইন আরো বলেন, নতুন কারাকারে কিছু বন্দি সরিয়ে নিলে পুরাতন কারাগারে চাপ কিছুটা কমে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.