
দেশের অন্যান্য ব্যাংকে নিয়মশৃঙ্খলা ফেরাতে কিছুটা কড়া ব্যবস্থা নেয়া হলেও সোনালী ব্যাংক পিএলসি–র চট্টগ্রাম শাখায় বিতর্ক ও অভিযোগ থামছে না—এসব অভিযোগে নাম উঠে এসেছে সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ও ইয়াছের আরাফাতের। সূত্র ও স্থানীয় ব্যাংককর্মীদের দাবি, তারা রাজনৈতিক পরিচয় ও সংঘবদ্ধ উপায়ে শাখাগুলোতে অনিয়ম ও চাপ তৈরির মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ অনুসারে, নাজিম ও ইয়াছের আগে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন শাখা ও ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অনুগত ও আত্মীয় প্রবীণদের পুনর্বাসন, কমিটি গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মাধ্যমে তাদের দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বেশ কয়েকজনকে এমপ্লয়ী ইউনিয়ন (৬৬৪)–এর পদে স্থানান্তর ও নিয়োগে তাদের ভূমিকা থাকার কথাও বলা হয়।
সূত্র জানায়, নাজিম আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লেবাসধারী পরিচয়ে থাকলেও ৫ আগস্টের পরে অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে—এবং ব্যাংকের কর্মস্থলে ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ এসেছে, তিনি বিভিন্ন শাখার ম্যানেজারদের হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা আদায় করছেন; কিছু ক্ষেত্রে পোস্টিং–বদলিতে অনিয়ম করে বিনিময়ে টাকা নেয়ারও অভিযুক্ত।
এছাড়া অভিযোগ আছে যে, সোনালী ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় অফিসার্স কোয়ার্টার এবং এ সি রুমসহ কিছু সুবিধা অনিয়মভাবে বরাদ্দ দিয়েছেন, যা ব্যাংকের অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ নষ্টের সমান—তথ্য অনুযায়ী এসব সুবিধা কয়েকজনের কাছে অস্বাভাবিকভাবে কম কিমতে বরাদ্দ করা হয়।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা (নাম গোপন রাখার শর্তে) জানান, নাজিম ও ইয়াছের বর্তমানে দুপক্ষীয় রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থে কর্মস্থলে ঝামেলা তৈরি করছেন; তারা জিয়া পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাল্টা কমিটি গঠনেও জড়িত বলে অভিযোন। অভিযোগ আছে, নাজিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের জবাবে নাজিম ও ইয়াছের তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো প্রতিকার দেয়নি—তবে ব্যাংকের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কমিটি নাজিম উদ্দিনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কলমবন্দী করেছে।
স্থানীয় কর্মীদের দাবি, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা দ্রুত লঙ্ঘিত হলে সেখানকার সেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে—অতএব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.