
গাজী মনিরুজ্জামান, খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার খাল-বিলজুড়ে চলছে এক ভয়াবহ মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণী নিধনযজ্ঞ। ইনভার্টারের মাধ্যমে তৈরি ইলেকট্রিক শক মেশিনে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে অসাধু মৎস্যশিকারীরা। এতে একদিকে যেমন বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজাতি, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধ ভুতিয়ারবিল, বাসুয়াখালী বিল, কোলা বিলসহ বিভিন্ন খাল-বিলে প্রতিনিয়তই ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে মাছ ধরার মহোৎসব চলছে।
বৈদ্যুতিক ঝাঁকুনিতে মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পড়ছে মা মাছ, পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণি। মাছ ধরার এই নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে শিকার হচ্ছে কৈ, শিং, টেংরা, টাকি, গজাল, শৈলসহ নানা প্রজাতির মাছ। শুধু তাই নয়, এই শিকারীরা ইলেকট্রিক শক মেশিনের পাশাপাশি ব্যবহার করছে নিষিদ্ধ চায়না জাল, ট্রেন জাল ও কারেন্ট জাল। এসব জালের ক্ষুদ্র ফাঁসে আটকা পড়ছে ছোট মাছ থেকে শুরু করে মাছের ডিম, রেনু পোনা এমনকি কাঁকড়া, কুচিয়া, সাপসহ নানা জলজ প্রাণি। জালে ধরা পড়া এসব প্রাণিকে তীরে তুলে নির্বিচারে ফেলে দেওয়া হয়।
ফলে নদী-নালা ও জলাশয়গুলো দিন দিন হয়ে পড়ছে মাছশূন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরের কাটেংগা, জয়সেনা ও তেরখাদা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই নিষিদ্ধ জাল। নতুন আসা চায়না জালে ছোট মাছও সহজে ধরা পড়ায় ব্যবসায়ীরা দেদারসে তা বিক্রি করছে। রাতে এসব জেলেরা জাল পেতে রেখে সকালে মাছ সংগ্রহ করে বিক্রি করছে স্থানীয় বাজারে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, এভাবে ইলেকট্রিক শক ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজনন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, তেমনি জলজ জীববৈচিত্র্য চরমভাবে বিপর্যস্ত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.