বয়স ৩০ বছর পার হলেই অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে ঝুঁকি এড়াতে জীবনধারায় খানিক বদল আনা জরুরি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে— অস্টিওপোরোসিস কী, এই রোগের লক্ষণ কি এবং চিনবেন কীভাবে?
বয়স বাড়লেই নানা শারীরিক সমস্যা হানা দিতে শুরু করে আপনার জীবনে। বিশেষ করে অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা বেশি হয়। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে বয়সজনিত কারণে হাড়ে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তার মধ্যে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। নারীরাই বেশি ভোগেন এই রোগে। বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
কেন হয় অস্টিওপোরোসিস?
অস্থিবিষয়ক চিকিৎসক সুব্রত গড়াই বলেছেন, হাড়ের গঠনে অন্যতম ভূমিকা রয়েছে ‘বোন মিনারেল ইউনিট ডেনসিটি’-র, যা হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে থাকে। হাড়ের গঠনে ভূমিকা রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসেরও। তাই যখন এই বোন মিনারেল ইউনিট ডেনসিটি কমে যায় বা ক্যালশিয়ামের মাত্রাও কমে যায়, তখন শুরু হয় হাড়ের ক্ষয় বা দুর্বল হয়ে যাওয়া।
পুরুষের ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস দেখা দিতে পারে। নারীর মধ্যে অবশ্য এ সমস্যা দেখা দেয় আরও কম বয়স থেকে। ত্রিশের পর থেকে শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব বেশি হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার রজোনিবৃত্তির পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ফলে হাড় দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও ছোট থেকেই জীবনধারা নিয়ে সচেতন থাকলে পরবর্তী সময়ে তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায় না।
যদি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় অস্টিওপোরোসিস হয়, তাহলে হালকা চাপ পড়লেই সে জায়গায় ব্যথা বাড়তে থাকে। মূলত কোমর ও হাঁটুতে অসম্ভব ব্যথা হয় তখন। মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে, কখনো আবার পা বেঁকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। অনেককেই কুঁজো হয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
যেভাবে শরীরের যত্ন নেবেন
১. নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম ও যোগাসন করার অভ্যাস— হাড়ের যত্ন নিতে সাহায্য করে। হাড়ের ক্ষয় হ্রাস করে। বয়স নির্বিশেষে সবার নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি। শুধু অস্টিওপোরোসিস নয়, হাড়ের অন্যান্য সমস্যা দূর করতেও ব্যায়াম করা একান্ত প্রয়োজন।
২. হাড়ের যত্ন নিতে ক্যালশিয়ামের ভূমিকা অপরিহার্য। ভিটামিন ‘ডি’ শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বহু ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ‘ডি’। শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি তৈরি হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। এ ছাড়া দুগ্ধজাত দ্রব্য, ডিম, মৌসুমি ফল ও মাছের মতো ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়।
৩. নানা প্রকার মাছ, বাদাম ও ব্রকোলির মতো ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হাড়ের ঘনত্ব তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা হ্রাস পেলে তা সরাসরি প্রভাব পড়ে হাড়ে। ক্যালশিয়াম অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.