কিডনির রোগ মানেই আতঙ্ক। আর একবার কিডনি বিকল হলে, তা প্রতিস্থাপন ছাড়া কোনো গতি থাকে না। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। এ ছাড়া ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে তখন ডায়ালাইসিস করতেই হয়। এতে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও কম থাকে। সে জায়গায় এমন চিকিৎসা পদ্ধতি আসতে চলেছে, যা কিডনির রোগ নির্মূল করবে চিরতরে। কিডনি কোনো প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনই পড়বে না।
যদি আপনার কিডনিতে পাথর হয়, তাহলে আতঙ্ক বাড়ে। সে জায়গায় কিডনির জটিল রোগ কিংবা কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হলে তো কথাই নেই। একবার কিডনি বিগড়ে গেলে, তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। সফল না হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে।
সে কারণে কিডনির অসুখ নিয়ে বিশ্বজুড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকরা। ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন ছাড়াই বিকল কিডনিকে সারিয়ে তোলার কোনো উপায় আছে কিনা, সে নিয়ে গবেষকরা চিন্তাভাবনা করছেন প্রতিনিয়ত। নানা রকম চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে একটি পদ্ধতি খুব সাড়া ফেলেছে গবেষক মহলে।
হার্ভার্ড স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, স্টেম কোষ প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে যে কোনো দুরারোগ্য রোগ সারানো সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সুস্থ কোষ দিয়ে বদলে ফেলার ভাবনা অলীক বলেই মনে হবে। কারণ তা করা প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করতে পারে স্টেম কোষ। আর স্টেম কোষের উৎস অনেক। সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বা অমরা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে থাকে স্টেম কোষ, যাকে ‘এমব্রায়োনিক স্টেম সেল’ বলে।
আবার মজ্জা থেকেও স্টেম কোষ তৈরি হয়। এই কোষগুলোকে অন্য যে কোনো কোষে বদলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন— মজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম কোষকে স্নায়ুর কোষে বদলে দেওয়া সম্ভব। আবার এর থেকে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক কিংবা কিডনির কোষেও বদলে দেওয়া সম্ভব। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
দাতার শরীর থেকে নেওয়া সুস্থ স্টেম কোষকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেই কোষকে তারপর প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে রোগীর শরীরে। দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে স্টেম কোষ রোগীর শরীরে ঢুকে নতুন কোষের জন্ম দেবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সরিয়ে নতুন কোষ সে জায়গা নেবে। এতে অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
স্টেম কোষ থেরাপিতে ক্যানসারও নিরাময় করা সম্ভব। একইভাবে ক্রনিক কিডনির রোগও সারিয়ে তোলা সম্ভব বলেই দাবি করেছেন গবেষকরা। তবে পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। বহুজনের শরীরে যদি এই থেরাপি সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলেই এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.