আলামিন হোসেন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
একসময় যে চলনবিল ছিল উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার, আজ সেই উর্বর মাঠই পরিণত হয়েছে জলমগ্ন মৃত্যুপুরীতে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় নির্বিচার ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে একের পর এক কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বোরো ধানসহ সব ধরনের ফসল আবাদ। সর্বনাশের মুখে পড়েছে হাজার হাজার কৃষক পরিবার।
ভূমি অফিস ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৭৩২ হেক্টর। এর বড় অংশ কৃষিজমি হলেও গত এক দশকে প্রায় ১৪ হাজার ৯৪৫ বিঘা (প্রায় ২ হাজার ৪৭১ হেক্টর) উর্বর কৃষিজমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে শুধু পুকুর খননের কারণে। বর্তমানে আরও ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ বিঘা জমি মারাত্মক জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত—যেখানে একসময় বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন হতো, সেখানে এখন একটি ফসলও ফলানো যাচ্ছে না।
বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে মঙ্গলবারিয়া, কালিদাস নিলি, বাঁশবাড়িয়া, সান্তান, গোয়াল গ্রাম ও মহিষলুটি এলাকার কৃষকেরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে পানি জমে রয়েছে মাসের পর মাস। পানির ওপর ভাসছে কচুরিপানা, আগাছা আর কৃষকের চোখের জল।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জমিতে এখনো ধান রোপণ করা যায়নি। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও আবার জমির অস্তিত্বই বোঝা যায় না। যেসব জমিতে কোনোভাবে ধান রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর ফলন নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
একজন কৃষক কাঁপা গলায় বলেন,
“আমাদের জীবন চলে এই জমিতে চাষ করে। কিন্তু পুকুর খননের কারণে আজ জমি থাকলেও চাষ করতে পারছি না। আমরা কি তবে কৃষক থেকে ভিখারি হয়ে যাব?”
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন,
“অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খননের ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলনবিল অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র পুকুর খনন চলতে থাকলে চলনবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল অচিরেই খাদ্য উৎপাদনের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এতে শুধু কৃষকেরাই নয়, পুরো দেশই খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান ও নজরদারি না থাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃষিজমি ধ্বংস করে চলেছে। দ্রুত অবৈধ পুকুর বন্ধ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা না করলে তাড়াশের কৃষি ব্যবস্থার চূড়ান্ত বিপর্যয় অনিবার্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.