উত্তর আটলান্টিক সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সাবমেরিন শনাক্তকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো পূর্ণ আকারের চালকবিহীন হেলিকপ্টার ‘প্রোটিয়াস’ চালু করেছে যুক্তরাজ্য।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এক ঘোষণায় জানায়, এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারটি তার সংক্ষিপ্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড বা ৮ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি উত্তর আটলান্টিক ও গ্রিনল্যান্ড সংলগ্ন জলসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ন্যাটো মিত্রদের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘লিওনার্দো’ এই হেলিকপ্টারটির নকশা ও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই হেলিকপ্টারটি মূলত সফটওয়্যারের মাধ্যমে আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিচালনা, সমুদ্রসীমায় টহল এবং পানির নিচে লুকিয়ে থাকা নৌযান শনাক্ত করার লক্ষ্যেই একে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
লিওনার্দো হেলিকপ্টারস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল কোলম্যানের মতে, প্রোটিয়াস সমুদ্রপথে আকাশসীমার অভিযানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, কারণ এটি প্রতিকূল পরিবেশে মানুষকে কোনো ঝুঁকিতে না ফেলেই অত্যন্ত বিপজ্জনক মিশন পরিচালনা করতে পারবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় রাশিয়ার জাহাজ ও সাবমেরিনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে।
যদিও মস্কো ও বেইজিংকে হুমকি হিসেবে দেখার বিষয়টিকে রাশিয়া ‘কল্পকাহিনি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে পশ্চিমারা।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে এর আগে ছোট আকারের নজরদারি ড্রোন থাকলেও প্রোটিয়াস আগের তুলনায় অনেক বড় এবং উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী, যা বর্তমানের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.