নুসরাত জাহান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল দালান যেমন আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলীতে মনকে আকৃষ্ট করে, তেমনি এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বিমোহিত করে বারংবার ।
ছয় ঋতুতেই যেনো নববধূ রূপে সেজে ওঠে সে!
বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে, শুষ্ক মাটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পলাশ ফুলও যেনো তার সৌন্দর্য মেলে ধরে! প্রকৃতির ক্যানভাসে নিজ সৌন্দর্যের আভা দিয়ে এক অনন্য শিল্পকর্মের উদ্ভব ঘটায়।
লাল-কমলা রঙের আগুনঝরা এই ফুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য। এটি শুধু ঋতুরাজের আগমনের বার্তাই দেয় না, বরং প্রকৃতিকে রঙিন সাজে সজ্জিত করে তোলে। শীতের সন্ন্যাসী আবহ বিদায় নিয়ে বসন্তের প্রাণোচ্ছলতা স্বাগত জানায়, আর তার অন্যতম দূত হয়ে ওঠে পলাশ ফুল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে, রাস্তার ধারে, দৃষ্টিনন্দন এই ফুল শুধু প্রকৃতির শোভাই বাড়ায় না, বরং ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস ও চিরন্তন বুনো সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। তার লাল-কমলা আভায় যেন নজরুলের কবিতার ছোঁয়া—
পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ওই
বউ-কথা-কও উঠল ডেকে।
শিস দিয়ে যায় উদাস হাওয়া
নেবুফুলের আতর মেখে॥
তবে পলাশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি গভীরভাবে ধারণ করে বায়ান্নোর ভাষা শহীদদের স্মৃতি। তরুণদের তেজি প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায় রাস্তার ধারে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই আগুনরাঙা ফুল। এই প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বাবুর গানটি মনে পড়ে—
"আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা, আমি জনম জনম রাখবো ধরে ভাই হারানোর জ্বালা"।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরম যত্নে কুড়িয়ে নেয় এই রক্তিম ফুল। কেউ মালা গাঁথে, কেউ এর সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করে, আবার কেউ শুধু তাকিয়ে থাকে নীরবে। বসন্তের স্নিগ্ধ আবহে ববরির প্রাঙ্গণ নানা রঙের ফুলে সেজে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে বিদ্যাপীঠকে সাজিয়ে দেয়। তখন এই বিশ্ববিদ্যালয় আর কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং রঙিন শাড়ি পরা এক রাণীর মতো চোখ ধাঁধানো রূপে ধরা দেয়!
প্রকৃতির এই অনন্য সাজ যেন মনে করিয়ে দেয়— বসন্ত মানেই শুধু ঋতুর পরিবর্তন নয়, এটি এক প্রাণের উচ্ছ্বাস, সৌন্দর্যের জাগরণ, ভালোবাসার উৎসব!
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.