নুসরাত জাহান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
“আত্মহত্যা”—এটি কেবল একটি শব্দ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শত সহস্র হৃদয়ের অসহ্য যন্ত্রণা, বেদনার ভয়াবহ পরিণতি। এটি যেন নিঃশব্দ এক চিৎকার, যা কাঁপিয়ে তোলে চারপাশ, অথচ শুনতে পায় না কেউ। নিস্তব্ধতার ভিড়ে হারিয়ে যায় কতগুলো প্রাণ, নিভে যায় শত শত জীবনের প্রদীপ।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। ফলে তারা ক্রমেই আত্মহত্যার ঝুঁকিতে পড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে—২০২৪ সালে ৪ জন শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন এবং ১১ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ২০২০–২০২৪ সালের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা মোট ১৭টি। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মারা গেছেন, আর বাকি ৬৫ শতাংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেঁচে গেছেন।
বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী (২০২০–২০২৬) শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা নিম্নরূপ—
২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১️. ২০২৪ সালের ঘটনাবলি
৬ সেপ্টেম্বর:
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পনা দাস (মেহেন্দীগঞ্জ) বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৭ জানুয়ারি:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বৃষ্টি সরকার প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেন।
মার্চ:
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী দেবশ্রী রায় পারিবারিক কলহ ও সাংসারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করেন।
৯ জুলাই:
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শেফা নূর ইবাদি প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেন।
উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
২০২৪ সালে এক বছরে ৪ জন শিক্ষার্থী (সকলেই নারী) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
একই বছরে আরও ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে গেছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন।
২️. ২০২৩ সালের ঘটনা
২০ জুলাই:
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিন রিভানাকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মোল্লা ছাত্রীনিবাস থেকে উদ্ধার করা হয়।
৩️. ২০২০ সালের ঘটনা
২ আগস্ট:
ফরিদপুরের নিজ বাড়িতে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া দাস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্রমেই মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন। আত্মহননের পথে ধাবিত হওয়ার পেছনে নিহতদের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকেই মানসিক চাপের পাশাপাশি প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক কলহসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যায় ভুক্তভোগী, যা ধীরে ধীরে তাঁদের এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করে।
সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়—
▪️ মানসিক চাপ
মানসিক চাপ একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে নিঃশব্দে ধ্বংস করে দেয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসে। একজন শিক্ষার্থী যখন পরিবার-পরিজন ছেড়ে ভিন্ন জায়গায় পাড়ি জমায়, তখন নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হয় না। একাকিত্ব ও অজানা ভয় তাকে আঁকড়ে ধরে। ফলে একপর্যায়ে সে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়।
কখনো সহপাঠীদের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে না পারা, তাদের আচরণ, নিঃসঙ্গতা তাকে জীবনের প্রতি অতিষ্ঠ করে তোলে। বাধ্য হয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে না পারাও এক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।
▪️ পারিবারিক কলহ
পরিবার থেকে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অভাব একজন শিক্ষার্থীকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। পরিবার প্রতিটি মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয়। কিন্তু যখন বাবা-মায়ের নিয়মিত ঝগড়া, শারীরিক বা কথার মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন, অবহেলা ও উপেক্ষা—“তুমি কোনো কাজের না”—এমন কথা চলতেই থাকে, তখন তার মনে জন্ম নেয়—আমি অপ্রয়োজনীয়, অপ্রিয়।
এই অনুভূতি আত্মমূল্যবোধ ভেঙে দেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ট্রমায় পরিণত হয়। পারিবারিক কলহ একদিনে শেষ হয় না; এটি তৈরি করে ক্রনিক স্ট্রেস, উদ্বেগ (Anxiety) ও বিষণ্নতা (Depression)।
একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ ও পরিবার—সব চাপ একসঙ্গে বহন করে, তখন তার মস্তিষ্ক আর বিশ্রাম পায় না। সে নিজেকেই দায়ী করতে শুরু করে—“আমার কারণেই ঝগড়া”, “আমি ভালো সন্তান হলে এমন হতো না।” এই আত্মদোষারোপ ধীরে ধীরে আত্মঘৃণায় রূপ নেয়, আর আত্মঘৃণাই আত্মহত্যার বড় পূর্বাভাস।
▪️ কথা বলার জায়গা না থাকা
পারিবারিক কলহে বড় হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রায়ই কারও কাছে মনের কথা বলতে পারে না। সমস্যাকে নিজের দুর্বলতা মনে করে। সাহায্য চাইতে লজ্জা পায়। ফলে তারা নীরবে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে।
▪️ ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা
পরিবার যদি হয় টক্সিক, নিয়ন্ত্রণমূলক বা তুলনামূলক (“ওর ছেলে দেখো!”)—পরীক্ষায় ভালো ফল না করলে এ ধরনের কথা শুনতে হলে শিক্ষার্থীর মনে হয়, এই জীবন থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। এই hopelessness আত্মহত্যার সবচেয়ে বিপজ্জনক উপাদান।
অনেক পরিবার সন্তানের প্রতি পর্যাপ্ত সাপোর্ট দেয় না। চরম অবহেলা ও দুর্ব্যবহারে আত্মহত্যাকেই ভুক্তভোগী ‘পালানোর পথ’ হিসেবে দেখতে শুরু করে। যখন পরিবারে শান্তি নেই, নিজের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ, কোথাও আশ্রয় নেই—তখন আত্মহত্যা তার কাছে আর ‘মৃত্যু’ থাকে না; বরং মনে হয়—সব কষ্ট শেষ করার উপায়। এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর পর্যায়।
▪️ প্রেমে ব্যর্থতা
প্রেমে ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যান একজন শিক্ষার্থীর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। অতিরিক্ত আবেগিক নির্ভরতার কারণে সম্পর্ক ভেঙে গেলে মনে হয় জীবনটাই অর্থহীন। একতরফা প্রেম, প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ গভীর মানসিক ট্রমা তৈরি করে। এর সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক চাপ যুক্ত হলে মানসিক চাপ দ্বিগুণ হয়। আবেগপ্রবণ বয়সে এসব কষ্ট অনেক সময় চরম হতাশায় রূপ নেয়।
▪️ অর্থনৈতিক সংকট
অর্থনৈতিক সংকট একজন শিক্ষার্থীকে ক্রমাগত মানসিক চাপে রাখে। টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার খরচ ও পারিবারিক দায়ভার তাকে অপরাধবোধে ভোগায়। নিজেকে পরিবারের ‘বোঝা’ মনে হওয়া আত্মসম্মান নষ্ট করে দেয়। দারিদ্র্যের কারণে স্বপ্ন ও সুযোগ সীমিত হলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা তৈরি হয়।
এই হতাশা ও চাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আত্মহত্যার চিন্তা জন্ম নিতে পারে।
প্রশ্ন থেকে যায়—আত্মহত্যার মতো একের পর এক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী মানসিক চিকিৎসক বা কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত—
১. স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলিং সেবা চালু করা
ক্যাম্পাসে ফুলটাইম ১–২ জন পেশাদার ও শিক্ষার্থী-বান্ধব মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া। শিক্ষার্থীদের জন্য গোপনীয় ও সহজলভ্য কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা।
২. মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে উন্মুক্ত সভা ও সেমিনারের আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
আলাদা ‘Mental Health Support Center’ চালু করে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে সেবা প্রদান।
৪. গোপন অভিযোগ ও সাহায্য চাওয়ার ব্যবস্থা
হটলাইন, অনলাইন ফর্ম বা হেল্পডেস্ক চালু করে পরিচয় গোপন রেখে সাহায্য চাওয়ার সুযোগ রাখা।
৫. একাকিত্ব কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি
পিয়ার সাপোর্ট ও কাউন্সেলিং গ্রুপ চালু করা এবং মানসিক সমস্যাকে তুচ্ছ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত এবং প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন – বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া তাসনীম বলেন -
“আমি মনে করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মনরোর বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কেননা – আত্মহত্যা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; এটি দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যার ফল, যা পারিবারিক, আর্থিক, প্রেমঘটিত, বন্ধুত্বজনিত বা একাডেমিক চাপ থেকে তৈরি হয়। সময়মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা গেলে এসব সমস্যা প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সমাধান সম্ভব। বাস্তবে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মানসিক সমস্যার কথা কারো সঙ্গে ভাগ করতে পারে না, ফলে একা একা মোকাবিলা করতে গিয়ে তারা প্রাণঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত হয়। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক ১–২ জন পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলে সচেতনতা বাড়বে। আমার মতে একাকিত্ব কমিয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করাই আত্মহত্যা রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা লোকমান লুনা বলেন-
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের চাপ মিলিয়ে তীব্র মানসিক চাপে থাকে, যা অনেক সময় তারা কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারে না। ক্যাম্পাসে একজন পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকলে শিক্ষার্থীরা গোপনীয়ভাবে নিজের সমস্যার কথা বলতে এবং সঠিক পরামর্শ পেতে পারবে। হতাশা, একাকিত্ব ও ব্যর্থতার ভয় থেকে জন্ম নেওয়া আত্মহত্যার চিন্তা সময়মতো কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে এ উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি। তাই একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই, ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী ও সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র থাকুক। যেখানে আমরা নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারব। সেবা যেন বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে পাওয়া যায় এবং পুরো বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পাশাপাশি, নিয়মিত কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হোক।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা চৈতী বলেন-
বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এখন সময়োপযোগী ও অত্যন্ত জরুরি উদ্যোগ, কারণ একাডেমিক চাপ, পারিবারিক ও সম্পর্কজনিত সমস্যায় অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সময়মতো কাউন্সেলিং, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণ ও নিয়মিত ফলো-আপ আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশাসনের দায়িত্ব হওয়া উচিত গোপনীয় ও সহজপ্রাপ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা কর্মসূচি এবং জরুরি সাপোর্ট সিস্টেম চালু করা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রত্যাশা থাকে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সহজ অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে নিয়মিত সেমিনার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় ও লজ্জা কমিয়ে সহায়তা নিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।
প্রত্যাশা এবং প্রশাসনের করণীয় দিকগুলোর কথা উল্লেখ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রায়হানুল ইসলাম সায়েম বলেন- “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দূর থেকে পড়াশোনা করতে এসে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। প্রত্যাশিত রেজাল্ট না পাওয়া, সেমিস্টার সিস্টেমের অতিরিক্ত চাপ ও অন্যান্য কারণে অনেকেই মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়, যা কখনো কখনো ডিপ্রেশন, মাদকাসক্তি বা আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হলেও, সংকটময় সময়ে তাৎক্ষণিক মানসিক সাপোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করি।”
পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃসাইফ উদ্দিন জানান-
“আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এমন একটা পরিবেশ চাই, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেক সময় আমরা ভেতরে ভেতরে চাপ, দুশ্চিন্তা আর হতাশার সাথে লড়াই করি—কিন্তু বলার মতো কাউকে পাই না।
ফলশ্রুতিতে আমাদের মাঝে আত্মহত্যা প্রবণতা জেঁকে বসতে থাকে। তাই ক্যাম্পাসে একজন পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলিং সেবা থাকা খুবই দরকার।”
সময়মতো কাউন্সেলিং ও মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট না দিলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই, আত্মহত্যা রোধে কেবল শাস্তি বা তদন্ত নয়, প্রয়োজন সহানুভূতি, সহায়তা ও সচেতনতা। প্রশাসনের সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপই শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তাদের এই সংবেদনশীল দিকটি বিবেচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যতো দ্রুত সম্ভব, বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ , মেন্টাল সাপোর্ট সেন্টার চালু করা এবং এই বিষয়ক উন্মুক্ত সভা সেমিনারের আয়োজন করবেন।
লেখক
নুসরাত জাহান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.