মাঠের বাইরের সব জল্পনা, বিতর্ক আর সিয়াটলের মেঘলা আকাশকে এক নিমেষেই আড়াল করে দিল বেলজিয়ামের এক তরুণ ফরোয়ার্ডের রূপকথার মতো পথচলার গল্প। যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে জোড়া গোল করে পুরো আলো নিজের ওপর কেড়ে নিয়েছেন চার্লস ডি কেটেলিয়ারে। বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর এই অগ্নিপরীক্ষায় রেড ডেভিলদের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিয়ে তিনি যখন জয়ের নায়ক, তখন ফুটবলবিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে তার লাইমলাইটে আসার পেছনের নাটকীয় অধ্যায়। কারণ, আজকের এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের ঠিক আগেই তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে তীব্র মানসিক চাপ, ট্রল আর ব্যর্থতার এক অন্তহীন মরুভূমি।
টেনিস ছেড়ে নিজের শহরের ক্লাব ব্রুজের ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মাঠের বহুমুখী প্রতিভা দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন তিনি। মাঝমাঠ, উইঙ্গার কিংবা ‘ফলস নাইন’ সব পজিশনেই তিনি ছিলেন সমান কার্যকর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বেলজিয়ান স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসে যখন তিনি ‘প্রমিজ অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পান, তখন রোমেলু লুকাকু ও ডিভোক ওরিগির মতো তারকাদের পাশে তার নাম উচ্চারিত হতে শুরু করে। এর আগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে পিএসজির মতো জায়ান্টের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে হঠাৎ শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে রাতারাতি নজরে আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার জেনিতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে নিজের জাত চেনান। ক্লাব ব্রুজের হয়ে শেষ মৌসুমে ১৮ গোল আর ১০ অ্যাসিস্টের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে নিয়ে যায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। যেখানে ২০ বছর বয়সের আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে একাধিক গোল করা প্রথম বেলজিয়ান হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি। এই চোখ ধাঁধানো প্রতিভার কারণেই ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ইউরোর চড়া মূল্যে তাকে সান সিরোতে উড়িয়ে আনে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান।


অনেকেই যখন তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন, ঠিক তখনই আটালান্টায় যোগ দিয়ে নতুনভাবে পুনর্জন্ম হয় তার। জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির অধীনে আটালান্টার জার্সিতে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পর, এবার বেলজিয়ামের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন নিজের সেই চেনা রূপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.