প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ৮:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২৬, ৩:০৪ পি.এম
কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ
কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ, বেরোবিতে হবে বিশেষ কর্নার
দুর্লভ গ্রন্থ সংরক্ষণে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির পরিকল্পনা, ডিসেম্বরের মধ্যে বই সংগ্রহের নির্দেশ
দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হবে। এ জন্য তার নামে একটি বিশেষ কর্নার অথবা পৃথক সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে কবি আবদুল হাই শিকদার এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, বরং দেশের জ্ঞান, গবেষণা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তিনি বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এসব বই ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ কাজে ইউজিসির সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, অনুবাদ, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার দুর্লভ বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা এসব বই তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার অথবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে আবদুল হাই শিকদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘নজরুল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, ‘নজরুল অধ্যাপক’ পদ পুনরায় চালু এবং ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে গবেষণা ও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে বিশেষ কর্নার স্থাপন ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।