ঝুম বৃষ্টি থামাতে পারেনি মানুষের পদচারণা। একদিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’, অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর দুই প্রান্তে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন স্মরণ, শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকার প্রকাশের মিলনমেলায় পরিণত হয়। গানে গানে উচ্চারিত হয় জুলাইয়ের দ্রোহ, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের কনসার্টটি বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর শুরু হলেও দর্শকদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। ব্যান্ড নীল, নাহিদ অ্যান্ড মিউজিশিয়ান, র্যাপার জে কে তাহমিদ, পারশা মাহজাবীন, অ্যাভয়েড রাফা, আর্বোভাইরাস, কুঁড়েঘরসহ বিভিন্ন দল ও শিল্পী প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গান পরিবেশন করেন।
এই অনুষ্ঠানের মাঝে হট্টগোল দেখা দিয়েছিল। রাত ৮টায় র্যাপার সেজান মঞ্চে উঠলে দর্শকদের একাংশ বেষ্টনী ভেঙে ফেলে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে থাকা বিশেষ দর্শক সারির চেয়ারগুলো লন্ডভন্ড করে মঞ্চের সামনে চলে আসেন তারা। এ সময় কয়েকজনকে মঞ্চেও উঠে যেতে দেখা যায়। স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সহযোগিতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি। শিল্পী এস এম আব্দুল্লাহ ফারাবীর ‘বাংলাদেশের বুকে জুলাই থাকবে জেগে’ গানটি দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। এরপর গান পরিবেশন করেন খালেদ মুন্না, রেবেলস, লালন, এএসইআইএস, হাইওয়ে, মাইলস, ওয়ারফেজ ও ডিফারেন্ট টাচ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দর্শকরাও শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ অতিথি এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন মূল দায়িত্ব। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে রাজপথে দাঁড়ানো শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক গানের প্রতিযোগিতা ‘তোমার গানে জাগবে জুলাই’-এর ২০ জন বিজয়ীর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন আব্দুল্লাহ্ আল ফারাবী, দ্বিতীয় মহসিন আহমেদ এবং তৃতীয় হন ড. মো. হাফিজুর রহমান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.