ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দলীয় ৪ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদের বিদায়ের পর মুমিনুল হক ক্রিজে এসেছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪ রান। জয়ের জন্য এখনো প্রয়োজন ২৩ রান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য এখন সফরকারীদের প্রয়োজন মাত্র ৫৭ রান। একসময় অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ক্যামেরন গ্রিনের প্রতিরোধে সেই সুযোগ শেষ পর্যন্ত আসেনি। তবু জয়ের আশাটা ভালোভাবেই জিইয়ে রেখেছে সফরকারীরা।
১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৪ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। ফলে অস্ট্রেলিয়া ৫৬ রানের লিড পায়।
গ্রিন একসময় বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তাঁকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেয় বাংলাদেশ। দলীয় ২৭৮ রানে নবম উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকেরা। মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের পঞ্চম উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান।
চতুর্থ দিন বল হাতে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। অফস্টাম্প বরাবর করা তাঁর ডেলিভারিতে বোল্ড হন গ্রিন। ২০১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৪ রান করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে পান তৃতীয় উইকেট। সব মিলিয়ে ম্যাচে তাঁর শিকার এখন ৯ উইকেট।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাসকিন আহমেদের বলে ৯৫ রানে জীবন পান গ্রিন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শতক পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। তবে দলের কঠিন সময়ে শতক করেও ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি তিনি।
লাঞ্চের পর তৃতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে ২টি চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। গ্রিনের সঙ্গে তাঁর জুটিতে আসে ৪৩ রান। ২৫০ রানে অস্ট্রেলিয়া হারায় অষ্টম উইকেট। তখন তাদের লিড ছিল ২২ রান।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ওই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়াই করেন গ্রিন। তাঁর হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া লাঞ্চে যায় ১৫ রানের লিড নিয়ে। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ৮৫ পেরিয়ে গ্রিন তখন অপরাজিত ছিলেন, অপর প্রান্তে স্টার্ক অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে।
দিনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় মিরাজ দেখান তাঁর স্পিনের জাদু। গ্রিন একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে একে একে ফিরিয়ে দেন তিনি। মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে তখন অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের। কিন্তু গ্রিন ও স্টার্কের জুটি সেই পরিস্থিতি বদলে দেয়। রোববার প্রথম সেশন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৪৩ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের সপ্তম ওভারেই পঞ্চম উইকেট হারায় তারা। অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে তাঁর ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন ক্যারি।
১৩ মাস পর এবং ১৩ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি করা গ্রিনের সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি বেউ ওয়েবস্টার। মিরাজের বলে ৫ রান করে বোল্ড হন তিনি। এরপর ১০৯ বলে ২টি চারে ফিফটি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে আসা প্যাট কামিন্সও মাত্র ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। কামিন্সকেও ফেরান মিরাজ। এটি ছিল নতুন দিনে মিরাজের তৃতীয় এবং ইনিংসে চতুর্থ উইকেট। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। ফলে বাংলাদেশকে ম্যাচ জিততে এখন প্রয়োজন ৫৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশ এখন মাত্র এক ধাপ দূরে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.