তারবিহীন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে তারের ঝামেলা থাকে না। ফলে ডিভাইস বহন ও ব্যবহার করা সহজ হয়। তবে প্রায় সবকিছুর জন্য ব্লুটুথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। পুরোপুরি ওয়্যারলেস হওয়ার আগে তাই কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার।
১. ব্যাটারি চার্জ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা
ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারের অন্যতম বড় অসুবিধা হলো এগুলোর নিজস্ব ব্যাটারি প্রয়োজন। তারযুক্ত হেডফোন, কিবোর্ড বা মাউস সংযুক্ত ডিভাইস থেকেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পেতে পারে। কিন্তু ব্লুটুথ ডিভাইসের জন্য আলাদাভাবে ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়।
একাধিক ওয়্যারলেস ডিভাইস ব্যবহার করলে সবগুলোর চার্জ ঠিক রাখা অনেকের জন্য বাড়তি ঝামেলার কারণ হতে পারে। যেমন, ভ্রমণের সময় হঠাৎ ইয়ারবাডের চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাঝেও ব্লুটুথ কিবোর্ড বা মাউস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া একাধিক ওয়্যারলেস ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে ফোন বা কম্পিউটারের ব্যাটারিও তুলনামূলক দ্রুত শেষ হতে পারে।
আরেকটি সমস্যা হলো ব্যাটারির আয়ু কমে যাওয়া। অনেক ওয়্যারলেস ডিভাইসে এমন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যা সহজে পরিবর্তন করা যায় না। ফলে সময়ের সঙ্গে ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেলে ভালো অবস্থায় থাকা পুরো ডিভাইসটিই ফেলে দিতে হতে পারে।
২. অডিওর মান ও শব্দ পৌঁছাতে সামান্য দেরি হতে পারে
ব্লুটুথের মাধ্যমে অডিও পাঠাতে ডিজিটাল তথ্য তারবিহীনভাবে স্থানান্তরিত হয়। ব্যবহৃত কোডেক ও হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করে এ সময় অডিও সংকুচিত হতে পারে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এর পার্থক্য খুব বেশি চোখে না পড়লেও উচ্চমানের অডিওকে যারা গুরুত্ব দেন, তারা তারযুক্ত সংযোগকে বেশি পছন্দ করতে পারেন। কারণ তারযুক্ত সংযোগে ব্লুটুথের ব্যান্ডউইথ ও কোডেকের সীমাবদ্ধতা থাকে না।
এ ছাড়া অডিও পৌঁছাতে সামান্য বিলম্বও হতে পারে। ভিডিও দেখা, ভিডিও কল কিংবা গেম খেলার সময় কখনো কখনো এই বিলম্ব চোখে পড়তে পারে। বিশেষ করে গেমারদের জন্য শব্দের সামান্য দেরিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৩. সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পেয়ারিংয়ের ঝামেলা
বছরের পর বছর ব্লুটুথ ডিভাইস পেয়ার করার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। তারপরও কখনো কখনো সংযোগ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
কোনো ডিভাইস ঠিকমতো সংযুক্ত না হলে সেটিংসে গিয়ে পেয়ারিং মোড চালু করা, ডিভাইসটি সরিয়ে আবার সংযুক্ত করা কিংবা নতুন করে পেয়ার করার প্রয়োজন হতে পারে।
পেয়ার হয়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট বা জনবহুল স্থানে আশপাশের অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইসের কারণে ব্লুটুথের কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ ছাড়া একাধিক ডিভাইসে একই সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবিধা থাকা ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোও কখনো ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ পরিবর্তনের সময় সমস্যায় পড়তে পারে।
৪. ব্লুটুথের পরিসরেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে
ব্লুটুথের অন্যতম আকর্ষণ হলো তার ছাড়াই নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত ডিভাইস ব্যবহার করা যায়। তবে এই সুবিধারও সীমা রয়েছে।
পুরোনো ব্লুটুথ সংস্করণগুলো আদর্শ পরিস্থিতিতে সাধারণত প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট পর্যন্ত কাজ করত। নতুন সংস্করণগুলো তাত্ত্বিকভাবে আরও বেশি দূরত্বে সংযোগ দিতে পারে। তবে বাস্তবে দেয়াল, আসবাব, ধাতব বস্তু এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক হস্তক্ষেপের কারণে কার্যকর দূরত্ব কমে যেতে পারে।
ফলে ডেস্কে বসে যে ব্লুটুথ সংযোগ ভালোভাবে কাজ করছে, অন্য কক্ষে গেলে সেটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। হেডফোন বা ইয়ারবাডের ক্ষেত্রে এর ফলে শব্দে বিঘ্ন ঘটতে পারে কিংবা ফোন বা কম্পিউটার থেকে বেশি দূরে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তাহলে কি ব্লুটুথ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত?
ব্লুটুথ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রযুক্তি। দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক ক্ষেত্রে এর সুবিধা অসুবিধার তুলনায় বেশি। তবে পুরোপুরি তারবিহীন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে ব্যাটারি চার্জের ঝামেলা, অডিওতে বিলম্ব, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং সীমিত পরিসরের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
বিশেষ করে যেসব ডিভাইসে নির্ভরযোগ্যতা, কম বিলম্ব বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেসব ক্ষেত্রে তারযুক্ত সংযোগ এখনো অনেক সময় সহজ ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হতে পারে।