বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান শামীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
অন্য দুজন হলেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানি। অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে অভিযোগের জবাব দিতে নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলের গত আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটিগ্রিটি ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক আচরণ, দুর্নীতিমূলক আচরণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো। বিপিএলের দ্বাদশ আসর অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত।
মোখলেছুরের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ : অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫-২৬ মেয়াদে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হওয়া মোখলেছুরের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার চারটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বিসিবি অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন। বিপিএল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত জানুয়ারিতে প্রথমে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মোখলেছুর। পরে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার ধারা ২.১.১। এই ধারায় কোনো ম্যাচ বা ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো দিককে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, তা করার ষড়যন্ত্র বা এ ধরনের কোনো চুক্তি কিংবা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি রয়েছে।
ধারা ২.১.৪ অনুযায়ী, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা, উৎসাহ দেওয়া কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে মোখলেছুরের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ধারা ২.৪.৪ অনুযায়ী, দুর্নীতিমূলক কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার কাছে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই প্রকাশে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিযোগটি ধারা ২.৪.৭-এর আওতায়। এই ধারায় তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে বা দুর্নীতিমূলক আচরণের প্রমাণ হতে পারে এমন তথ্য, যোগাযোগ বা আলামত গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
জাকিরের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ : বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ধারা ২.১.১ ও ২.১.৪ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা প্রথম দুই অভিযোগেরই অনুরূপ। অন্য অভিযোগটি ধারা ২.৪.৬-এর আওতায়।
এ ধারায় যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি বা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ধারা ৪.৩-এর আওতায় জারি করা নোটিশের জবাব না দেওয়াও রয়েছে।
সানির বিরুদ্ধে দুই অভিযোগ : বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধারা ২.৪.৪-এর অধীনে দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে যথাসময়ে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি ধারা ২.৪.৬ অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি বা ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। রকিবুল ইসলাম সানি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিসিবি আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আল আমিন সরকার
মোবাইল: +8801676791162
অফিস : 378/6, East Goran, Khilgaon, Dhaka-1219.
ইমেইল : sbservicesltd2025@gmail.com
Design & Development By HosterCube Ltd.