
হামিদ হাসান কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
“জামায়াত আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব, যে কথায় জামায়াত কষ্ট পায়, সে কথা বলব না’—কটিয়াদীতে কৈফিয়ত সভায় বিএনপির বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন তার বক্তব্যে অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন আরো বলেন, ‘যে কথায় জামায়াতে ইসলামী কষ্ট পায়, সেই কথা আমি বলব না। প্রয়োজনে নিজের জিহ্বা কেটে ফেলতেও রাজি আছি।’
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে আয়োজিত এক কৈফিয়ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর (অব.) রঞ্জন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। তারা আশ্রয় না দিলে হয়তো আমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো। এই বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই—আমি কীভাবে নতুন ঘর বানাব? কিন্তু জামায়াত আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এ জন্য আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই দেখছি আমার রাজনৈতিক মূল্য বেড়ে গেছে। বিএনপির অনেক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছে। এতে আমি কষ্ট পাই না, বরং শুকরিয়া আদায় করি। কারণ এতে বুঝতে পারছি, আমি একসময় তাদের ঘরের একটি শক্ত খুঁটি ছিলাম। আমি নিজে দল ছাড়িনি—আপনারাই আমাকে বের করে দিয়েছেন। গত তিন বছর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও দেননি। আজ গালাগালি করছেন—এটাও ভালো লাগে, অন্তত আমাকে নিয়ে ভাবছেন।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে। আমি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে নিশ্চয় তারা আমাকে সম্মানজনক কোনো স্থানে রাখবে।’
জামায়াতের কাছে তিনটি আবদার তুলে ধরে মেজর (অব.) রঞ্জন বলেন,
প্রথমত— দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
দ্বিতীয়ত— বিশৃঙ্খলা নয়, সত্য প্রকাশ ও শান্তির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হোক।
তৃতীয়ত— সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা চাই, যেখানে মানুষ মানুষকে সম্মান করবে।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের প্রয়োজনে পাতাল থেকেও তুলে এনে বিচার করতে হবে। আমরা শুধু বিচারই নয়, শহীদ হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে চাই।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী পাকুন্দিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ছাড়া টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জনের মতো দেশপ্রেমিক, সাহসী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের জামায়াতে ইসলামিতে যোগদান সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।” এ যোগদান কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ কিশোরগঞ্জ–২ আসনে জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে।
এছাড়াও উপজেলা আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সাবেক আমীর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খালেদ সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, সাইদুল হক বিএসসি, বোরহান উদ্দিন, মিজানুর রহমান জীবনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বিএনপির সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন।