
আজ ১ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি। স্বাধীনতার পর দেশের ক্রান্তিকালে যে দলটিকে বারবার দেশকে সঠিক পথে চালনার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রগণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে, সে দলটিই বিএনপি। কালবেলার পক্ষ থেকে দেশের সর্ববৃহৎ এ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা জিয়াউর রহমান ইতিহাসের সৃষ্টি ও স্রষ্টা। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা অসম্ভব। দেশ ও জাতির চরম ক্রান্তিলগ্নে এই মহান নেতা দুবার ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে এসেছেন। প্রথমবার একাত্তরে, দ্বিতীয়বার পঁচাত্তরে। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নির্বিচারে গণহত্যা করে, আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছ থেকে যখন কোনো নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা।
তার এ ঘোষণা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত করে। দিশাহীন জাতি খুঁজে পায় মুক্তির দিশা। জিয়াউর রহমান কারও নির্দেশ ছাড়াই ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। তিনি তার অধিনায়ক জেনারেল জানজুয়াকে গ্রেপ্তার ও হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। এরপর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশ যখন একটি গভীর অনিশ্চয়তায় পতিত হয়, তখন আবার এগিয়ে আসতে হয় জিয়াউর রহমানকে।
অস্থির সে সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের পর আবার ইথারে ভেসে আসে তার কণ্ঠস্বর। পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়। জনমনে আশার সঞ্চার করেন তিনি। এরপর জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে শহীদ হন। শুরু হয় এরশাদ হোসেনের স্বৈরশাসন। এক পর্যায়ে দলের দায়িত্ব পড়ে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। দীর্ঘ নয় বছর তার নেতৃত্বে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বিএনপি।
দীর্ঘ সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার আপসহীন আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদের পতন নিশ্চিত হয়। তার হাতেই ফিরে আসে গণতান্ত্রিক ধারা। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে দেশ আবার এক স্বৈরশাসকের কবলে পড়ে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলে এক ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসন। এ সময়ে তিন তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হরণ হয় জনগণের ভোটাধিকার। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো হয় দুর্বল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয় ভঙ্গুর দশা। বিদেশে পাচার হয় লাখ লাখ কোটি টাকা।
মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা হরণ হয়। গুম খুনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। বিরোধীমত ও পথের মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়। এ পুরো সময়ে নিপীড়নের শিকার হতে হয় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ এ লড়াই-সংগ্রামে তারা কখনো রাজপথ ছাড়েনি। চব্বিশের অভ্যুত্থানেও অগ্রণী ভূমিকা রাখে দলটি। ‘ফ্যাসিবাদ’-এর পুরো সময়ে দলটির নেতৃত্ব দেন জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৫ আগস্টের পর দেশ নতুন করে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এ দলটিকেই আবার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেয় দেশের মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা, এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়াদবাদী দল বরাবরের মতোই বিশেষ ভূমিকা রাখবে। দেশ ও জাতির ঘোরতর বিপদে দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবে।