ডি ন্যানোর এই বক্তব্যের বিপরীতে পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তাদের ব্যবস্থায় ২০২০ সালের ২২ জুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা ধরা পড়েনি। সংস্থাটি জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সাধারণত ৫০০ টন টিএনটির সমান বা তার বেশি শক্তির বিস্ফোরণ শনাক্ত করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের জবাবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘চীন ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি অনুসরণ করে, আত্মরক্ষাভিত্তিক পারমাণবিক কৌশল মেনে চলে এবং পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার অঙ্গীকারে অটল রয়েছে।’ তিনি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও অপ্রসারণ ব্যবস্থা রক্ষায় সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে ‘এক যুগের অবসান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ডিন্যানো বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সংযমের সমাপ্তি। যুক্তরাষ্ট্র তার চলমান পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি সম্পন্ন করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সক্ষমতা ব্যবহারের পথ খোলা রাখবে।’ ভবিষ্যৎ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় রাশিয়ার পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও আলোচনার টেবিলে আনতে হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এখনো ত্রিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী, কারণ তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমতুল্য নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার ধারণা, নিউ স্টার্টের অবসান ও সম্ভাব্য অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ শেষ পর্যন্ত চীনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পারে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ গুরুতর বিষয় হলেও শুধু অভিযোগ তোলাই সমাধান নয়। তাদের মতে, কার্যকর সমাধানের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও গঠনমূলক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংলাপ প্রয়োজন।