
ড. ফাহমিদা খাতুন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই অর্থনীতিবিদ যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। ফাহমিদা খাতুন বর্তমান সরকারের ৬ মাসপূর্তিতে অর্থনীতির নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাকির হোসেন
বিএনপি সরকার গঠনের সময় অর্থনীতি কেমন ছিল? ছয় মাস পর কেমন মনে হচ্ছে?
ফাহমিদা খাতুন: বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনীতি পেয়েছিল, যেখানে একই সঙ্গে কয়েকটি গভীর সমস্যা সক্রিয় ছিল। যেমন– দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতে বিপুল খেলাপি ঋণ, নিম্ন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, নিম্ন রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগের স্থবিরতা, জ্বালানির অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের সংকট। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সমস্যাগুলো সমাধানের কিছুটা চেষ্টা করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের ছয় মাস পর বলা যায়, অর্থনীতিতে এখনও প্রাণচাঞ্চল্য ফেরেনি। মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘর থেকে ৮ শতাংশের ঘরে নামা ইতিবাচক। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রতিফলন সীমিত। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমা মানে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; দাম আগের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্পোৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এখনও আসেনি। জ্বালানি সংকট বরং উৎপাদন ব্যবস্থাকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।
জ্বালানি সংকটের জন্য আগের দুটি সরকারের দায় কতটুকু? নতুন সরকার কী করতে পারত? আগামীতে কী করা উচিত?
ফাহমিদা খাতুন: জ্বালানি সংকটের কিছু তাৎক্ষণিক কারণ রয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কারণ। তাৎক্ষণিক কারণের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সংঘাত, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা। শুধু বাইরের পরিস্থিতিকে দায়ী করলে সমস্যার মূল কারণ আড়াল হবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা পতিত সরকারের সময় জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সঞ্চালনব্যবস্থা এবং জ্বালানি দক্ষতায় যথেষ্ট বিনিয়োগ হয়নি। চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তবসম্মত হিসাব ছাড়াই অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফলে উৎপাদনক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। এই সংকটের কোনো একটি সহজ সমাধান নেই। সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি অফিস, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক ভবন ও বড় ব্যবহারকারীদের জন্য পরিমাপযোগ্য জ্বালানি দক্ষতার মানদণ্ড চালু করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণেও সংস্কার প্রয়োজন। কৃত্রিমভাবে কম দাম একদিকে অপচয় বাড়ায়, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকির বোঝা বৃদ্ধি করে। তবে হঠাৎ বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাই ধাপে ধাপে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে পণ্যে নির্বিচার ভর্তুকির পরিবর্তে প্রয়োজনীয় মানুষকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না কেন? করণীয় কী?
ফাহমিদা খাতুন: ব্যাংকে অর্থ থাকলেই বিনিয়োগ হয় না। বিনিয়োগের জন্য একই সঙ্গে ঋণের চাহিদা, গ্রহণযোগ্য ঝুঁকি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে শর্তগুলোর বেশ কয়েকটি অনুপস্থিত। উচ্চ সুদহার ও উৎপাদন ব্যয়, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, দুর্বল বাজার চাহিদা, কর ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার জটিলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প নিচ্ছেন না। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে গেছে। কারণ তাদের ব্যালান্স শিটে খেলাপি ঋণ বেশি এবং অনেক সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক অবস্থাও দুর্বল। ফলে ব্যাংকের তারল্য সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ হচ্ছে বা অব্যবহৃত থাকছে, কিন্তু উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে এই আস্থাহীনতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখতে হবে। আরেকটি বিষয় এখানে পরিষ্কার থাকা উচিত। সুদহার কমিয়ে দিলেই এর সমাধান হবে না। প্রথমে জ্বালানি সরবরাহে নিশ্চয়তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসার ব্যয় কমাতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, রপ্তানিমুখী খাত, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে ভালো ঋণগ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে আলাদা করে ঋণ পুনর্গঠন ও আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বিনিয়োগের বাধাগুলো সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে।
ব্যাংক খাতের ক্ষত সারাতে সরকার কি সঠিক পথে আছে?
ফাহমিদা খাতুন: ব্যাংক খাতের ক্ষত সারাতে অনেক সময় লাগবে। কারণ এই ক্ষতের মাত্রা এবং গভীরতা অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু পদক্ষেপ দেখা গেছে। দুর্বল ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নির্ধারণ, সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা এবং খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ চলছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে হিসাবের কারসাজির মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি আড়াল করা হয়েছে। পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলমান। ব্যাংক থেকে চুরি হয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়া অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে, তবে সেটি সময়সাপেক্ষ। আসলে পুরো ক্ষত সারানোর জন্য যেমন প্রয়োজন সময়, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকারকে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখাতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে সরকারি অর্থ দিয়ে রক্ষা করবে না। অন্যদিকে আমানতকারীকে সুরক্ষা দিতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে দূরত্ব, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারিত্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং ঋণ জালিয়াতির বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক সংস্কারকে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় বানালে এই খাতের ক্ষত সারবে না।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রভাব কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ফাহমিদা খাতুন: ছয় মাস কোনো সরকারের সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তবে এই সময়ে বোঝা যায়, সরকার প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, বাজেট এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তর করতে পেরেছে কিনা। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান উদ্যোগ। তবে কার্ড বিতরণই সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় পক্ষপাত, আত্মীয়করণ এবং ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির ঝুঁকি রয়েছে। তাই একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য সামাজিক নিবন্ধন তৈরি করা প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক আয়, পেশা, ভূমির মালিকানা ও বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার তথ্য যাচাই করে তালিকা করতে হবে। তালিকার একটি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রকাশ, আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং স্বাধীন নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। নারীর নামে কার্ড দেওয়া ইতিবাচক, কিন্তু অর্থের ওপর তাঁর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সরকারের ছয় মাসে অর্থনীতির কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য রয়েছে বলে মনে করেন?
ফাহমিদা খাতুন: প্রথমত, একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক বৈধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতির ওপর তাৎক্ষণিক চাপ আগের তুলনায় নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তৃতীয়ত, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো নির্বাচনী কর্মসূচির পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চতুর্থত, কৃষকদের ক্ষুদ্রঋণ মওকুফ এবং প্রত্যক্ষ সহায়তার উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। পঞ্চমত, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক করপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এগুলোকে এখনই স্থায়ী অর্থনৈতিক সাফল্য বলা যাবে না। কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ, রাজস্ব আদায় দুর্বল, বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে, কর্মসংস্থান বাড়ছে না এবং জ্বালানি সংকট শিল্পোৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাফল্যের মূল্যায়ন শুধু কতগুলো কর্মসূচি ঘোষণা বা কতগুলো কার্ড বিতরণ করা হয়েছে– তার ভিত্তিতে করা ঠিক হবে না। দেখতে হবে, মানুষের আয়, কাজের সুযোগ, উৎপাদন এবং জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন এসেছে কিনা।
রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে গত ছয় মাসে অগ্রগতি কেমন?
ফাহমিদা খাতুন: নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ করেছে। অবশ্য গত ছয় মাসে কিছুটা স্বাভাবিকতা এলেও ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণ আস্থা তৈরি হয়নি। কারণ বিনিয়োগকারীরা দেখেন দেশে আইনের প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষ, নীতি হঠাৎ করে বদলে যায় কিনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক চাপ বা চাঁদাবাজির মুখে পড়ে কিনা এবং বিরোধী মত ও সামাজিক অসন্তোষ শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে কিনা। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত হচ্ছে, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি, আইনের সমান প্রয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা। সরকারকে দলীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে হবে। বিরোধী কণ্ঠ দমন নয়, বরং অর্থনীতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন।
আগামী ছয় মাসে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রতি আপনার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ কী?
ফাহমিদা খাতুন: আগামী ছয় মাসে সরকারকে অনেক কর্মসূচি একসঙ্গে নেওয়ার পরিবর্তে কয়েকটি সংকটময় বিষয়ে ভালো ফল দেখাতে হবে। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। শিল্প, কৃষি ও জরুরি সেবায় অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সুদহারের ওপর নির্ভর না করে খাদ্য সরবরাহ, মজুত, আমদানি ও বাজার তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে সীমিত সরকারি সম্পদের দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, বিনিয়োগের আস্থা ফেরাতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, করনীতি, ঋণের উচ্চ ব্যয়, চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার দ্রুত সমাধান করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পঞ্চমত, ব্যাংক সংস্কারে আপস করা যাবে না। প্রকৃত খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি, দুর্বল ব্যাংকের সময়বদ্ধ পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠত, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর ফাঁকি ও অযৌক্তিক কর-সুবিধা বন্ধ এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করতে হবে। সপ্তমত, সামাজিক সুরক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যাচাইযোগ্য উপকারভোগী তালিকা, কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং স্বাধীন মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।