
মোংলা কাস্টমস দিয়ে পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘোষণায় খণ্ডিত অবস্থায় আনা ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলো হচ্ছে-রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এসব গাড়ির বাজার মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি।
একই অভিযোগে চট্টগ্রামে আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোংলা ও চট্টগ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব যন্ত্রাংশ ও গাড়ি জব্দ করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান গাড়ির পুরোনো যন্ত্রাংশ খালাসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। চালানটিতে মোট ১৪টি আইটেমের ১৬৪ প্যাকেজে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কেজি যন্ত্রাংশের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। যার মধ্যে ছিল গাড়ির দরজা, ২০০০ সিসির পেট্রোল ইঞ্জিন ও গিয়ার অ্যাসেম্বলি, সাসপেনশন শক এবজরবার, নোজ কাট, হেডলাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিয়ারিং হুইল, বাম্পার, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, ডিফারেনশিয়াল ও অ্যাক্সেলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। গোপন সংবাদ থাকায় চালানটি খালাস স্থগিত করে শুল্ক গোয়েন্দা।
এরপর ১৯ জুলাই চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআই-এর সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
কায়িক পরীক্ষায় দেখা গেছে, গাড়ির যন্ত্রাংশের বিপরীতে ওয়ারিং হামেস, সেন্সর ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় ফ্রন্ট কাট, কমপ্লিট রেয়ার/টেইল কাট, ফ্রন্ট এবং রেয়ার বডি কাট এবং রুট কাট প্যানেল অ্যাসেম্বলি পাওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসাবে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র ৩-৪টি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে। এসব অংশ পুনরায় সংযোজন করলে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রেঞ্জ রোভার ভোগ ২০১৭, বিএমডব্লিউ ২০১০, লেক্সাস ২০১৬ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট মডেলের ৪টি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। যদিও যন্ত্রাংশ ঘোষণায় আমদানিমূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার (৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা)। এর বিপরীতে শুল্ক-কর দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে রহমতগঞ্জের সাত্তার মঞ্জিল থেকে আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ি (চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫০) জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। সংস্থাটির তথ্যমতে, গাড়িটি সম্পূর্ণ অবস্থায় আমদানি না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসাবে দুবাই থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়। পরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পর গাড়িটির বিভিন্ন অংশ কাপ্তাই/চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নিয়ে জোড়া লাগানোর কাজ করা হয়।
নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি অটোমোবাইল গ্যারেজে নিয়ে গাড়িটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করার পর গাড়িটি একটি পুরোনো বিএমডব্লিউ-এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করছিল। গাড়িটির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গাড়ির বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, শিপিং ডকুমেন্টস, চেসিস, আমদানি মূল্য, ঘোষিত পণ্যের বিবরণ এবং পরিশোধিত শুল্ক-কর যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ হিসাবে ঘোষিত পণ্যগুলো দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সম্পূর্ণ গাড়ি হিসাবে সংযোজন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।