leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ল ১০০ থেকে ১৪২%

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপন একটি নয়, এ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে। পাশাপাশি আইনগত ভেটিং শেষে কয়েকটি বিষয় এসআরও আকারেও জারি করা হবে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১২ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল হয়নি। পাঁচ বছর অন্তর যেখানে পে স্কেল চেঞ্জ হওয়ার নিয়ম। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করতে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আটটি বৈঠক করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বেতন কাঠামোয় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা দেওয়া শুরু হবে।

এর আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান।

বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

কোন খাতে কত বাড়ছে:

১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড-১১-তে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-তে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-তে ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-তে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-তে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড-১৬-তে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-তে ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-তে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

পেনশনেও বড় পরিবর্তন: নতুন বেতন স্কেলে পুরোনো পেনশনভোগীদের জন্যও স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হবে।

এছাড়া ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ হারে পেনশন বাড়ানো হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধীরে ধীরে ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা: নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া এতদিন নির্দিষ্ট কিছু গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও নতুন বেতন স্কেলে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: নতুন বেতন স্কেলে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে এখনই তিনি কিছু বলতে পারছেন না। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। সরকারি চাকরিজীবীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়েও এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। এ-সংক্রান্ত এসআরও জারি হওয়ার পর বিষয়গুলো জানা যাবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড: সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেল আসার পর এ বিষয়টির ‘গতিবেগ বাড়বে’। এটি আর আগের মতো পড়ে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও সরকারের আলোচনায় এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বেতন স্কেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বেতন বৃদ্ধি জরুরি। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থউপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রয়োজন বিবেচনায় আমরা এটার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নতুন এই বেতন কাঠামো আরও আগে হওয়া দরকার ছিল। তবে এটার জন্য বেসরকারি খাতে এক ধরনের চাপ তৈরি হবে, সেটা ঠিক। সেখানেও মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে বেসরকারি খাতের সবখানেই এমনকি সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার দরকার। আবার সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়েও আনা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.