leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫
  • ৩৫ বার পঠিত

বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে কেন্দ্রগুলোর বিশেষ করে আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির মধ্যে থাকা ক্যাপাসিটি চার্জ বা পেমেন্ট বাদ দেওয়া বা কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত শুক্রবার দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, সরকার আইপিপিদের সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনা করছে, যাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের ধারা বাদ দেওয়া যায়। যা দীর্ঘকাল ধরে প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে ট্যারিফ নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোতে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের যে অপশন রয়েছে, তা নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করা হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জ তো শতভাগ বাদ দেওয়া যাবে না। আমরা কমিয়ে আনতে কাজ করছি। তিনি জানান, ক্যাপাসিটি চার্জ কমিয়ে আনতে পারলে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গ্যাস ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ক্যাপাসিটি পেমেন্ট প্রতি কিলোওয়াট প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ মার্কিন ডলার এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রতি কিলোওয়াট প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মার্কিন ডলার। সম্প্রতি সফররত আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস বা তরল জ্বালানিভিত্তিক এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বছরে ১২০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে বার্ষিক ২৪০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এগুলো সরকারের ভর্তুকির হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আইপিপি ও যৌথ উদ্যোগের বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠন করে। এই কমিটি বর্তমানে বিদ্যমান পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) পরীক্ষা করছে, যাতে এ ধরনের চার্জ থেকে বিপিডিবির আর্থিক বোঝা কমানোর উপায় খুঁজে বের করা যায়। পরে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফজলুল কবির খানের নেতৃত্বে সব পিপিএ পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরই মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর রিটার্ন অব ইক্যুইটি (আরওই) ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করে পিডিবি বছরে ৩১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, নওপাজেকো (৬টি প্লান্ট) ১৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এপিএসসিএল (৫টি প্লান্ট) ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ইজিসিবি (৩টি প্লান্ট) ৩২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আরপিসিএল (৪টি প্লান্ট) ৪৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বিআরপিএল (২টি প্লান্ট) ২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা সাশ্রয় করার পরিকল্পনা করেছে।

এ ছাড়া অন্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (ওঅ্যান্ডএম) চার্জ কমিয়ে ৪৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ১০ শতাংশের কম প্লান্ট ফ্যাক্টরে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সংশোধিত স্থায়ী ওঅ্যান্ডএমের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধের সীমা নির্ধারণ করে ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং যৌথ উদ্যোগের কোম্পানিগুলোর প্রকল্প নির্মাণকালে ইক্যুইটির ওপর আয় পরিশোধ বাতিল করে ৬৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সাশ্রয় করা। এ ছাড়া প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১০০ কিলোক্যালোরি তাপ হার কমিয়ে ৫৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) ছাড়া বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) জন্য প্রকৃত হারে ওঅ্যান্ডএম শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করে ১৬৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। পাশাপাশি আদানি পাওয়ারের কয়লার দাম কমানোরও কাজ শুরু হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে স্বেচ্ছায় তাদের পিপিএ পুনর্বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ, বিদ্যুতের মূল্যের স্বচ্ছতার জন্য পিপিএর অসংগতিগুলো সংশোধন করা আব্যশক। পিডিবি প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ১২ টাকায় কিনে ৮ টাকা ৯৫ পয়সায় বিক্রি করে। ফলে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় তিন টাকা পাঁচ পয়সা লোকসান দিতে হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে মেটানো হয়। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.