২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে, যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ, তখন নানা ঘটনার মধ্যে নর্দ্দা, বসুন্ধরা, এবং যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকার পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে জটিল ও সংঘাতপূর্ণ।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সময়কার কিছু সাহসী ছাত্রনেতার ভূমিকা এখনো ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তাদেরই একজন, ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা আরিফুল হাসান, যিনি ১৯ জুলাইয়ের ভয়ার্ত পরিবেশে আন্দোলনকে উজ্জীবিত রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর বরাতে জানা যায়—যখন ভয়ে কেউ রাস্তায় নামছিল না, তখন আরিফুল হাসান স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী, তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে রাজপথে সক্রিয় করেন।
তাঁর নেতৃত্বেই নর্দ্দা এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি, পুলিশের আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানো এবং সংগঠিত স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনের নতুন গতি তৈরি হয়। অনেকেই জানান, সেদিনের সংঘর্ষে সাধারণ পথচারী, রিকশাচালক, এমনকি সবজি বিক্রেতাও যুক্ত হন ছাত্রদের পাশে।
একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, “ভয়ে কেউ নামছিল না। আরিফুল ভাই সামনে থেকে বলেছিলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকা মানে অপরাধের অংশীদার হওয়া।”
পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যুবদল ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা যুক্ত হন। একাধিক সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার, রক্তপাতের মধ্যেও আরিফুল হাসান ও তাঁর সহযোদ্ধারা আন্দোলন চালিয়ে যান।
আজ, এক বছর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে, সেই সময়ের অনেকেই মনে করছেন, সেদিন যদি কেউ সাহস করে সামনে না আসত, হয়তো সেই গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠত না।
স্থানীয় এক পথচারী, যিনি সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন, বলেন
”এসব ছেলেরা না থাকলে হয়তো কেউ কোনোদিন রাস্তায় দাঁড়াত না। ভয় আর নির্যাতনের মধ্যে থেকেও তারা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে দেশ বা দল যদি তাদের মতো কর্মীদের চিনতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতেও সংকটে নেতৃত্ব খুঁজে পাবে না” ।