সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে গৃহহীনদের উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, গৃহহীনদের থাকার জন্য রাজধানীর বাইরে ব্যবস্থা করা হবে এবং অপরাধীদের কারাগারে পাঠানো হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, আগামী সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও পরিকল্পনা
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেছেন, “গৃহহীনদের অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। আমরা আপনাদের থাকার জায়গা দেব, তবে রাজধানী থেকে অনেক দূরে।” তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের জেলে পাঠানো হবে, যেখানে তাদের থাকা উচিত।”
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গৃহহীনদের শহরের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে রাজধানীকে “অপরাধমুক্ত ও সুন্দর” করা হবে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মেয়রের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউজার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, গত দুই বছরে সহিংস অপরাধের হার ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার ওয়াশিংটনকে “বাগদাদের চেয়ে বেশি সহিংস” বলে মন্তব্য করলে, মেয়র বাউজার এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই তুলনাকে “অতিরঞ্জিত ও ভুল” বলে আখ্যায়িত করেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৩,৭৮২ জন গৃহহীন মানুষ রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন রাস্তায় বসবাস করেন।
পূর্ববর্তী প্রস্তাবনা
এর আগেও ২০২২ সালে ট্রাম্প গৃহহীনদের শহরের বাইরে কম খরচের জমিতে উন্নত মানের তাঁবুতে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে শৌচাগার ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকবে।
ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আইন-শৃঙ্খলা এবং অভিবাসন મુદ્দাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রায়ই এ ধরনের আগ্রাসী বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
এই ভিডিওটি আপনাকে ট্রাম্পের ঘোষণা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সাহায্য করবে।