ঢাকা, ১২ই আগস্ট, ২০২৫: ভারত কর্তৃক স্থলপথে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির উত্তর এখনও দেয়নি দিল্লি। গত মে মাসে এই চিঠি পাঠানো হলেও, দুই মাসেরও বেশি সময় পরেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া না মেলায় বাণিজ্য সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন করে বাংলাদেশের আরও চারটি পাটজাত পণ্যের ওপর স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত।
চলতি বছরের মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাবপত্র এবং ফল ও ফলজাতীয় পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
ভারতের এই আকস্মিক পদক্ষেপে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেয়। বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিল্লিকে চিঠি পাঠায় ঢাকা। চিঠিতে বাংলাদেশ জানায় যে, তারা কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে চায় না এবং আলোচনার মাধ্যমেই উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী।
তবে, ঢাকার পাঠানো সেই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব এখন পর্যন্ত আসেনি। উল্টো, সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে আরও চারটি পাটজাত পণ্য – পাটের কাপড়, দড়ি, বস্তা ও ব্যাগ – স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পাটশিল্প বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, স্থলপথে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় তাদের এখন সমুদ্রপথে পণ্য পাঠাতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। ঢাকার পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাবের পরেও দিল্লির নীরবতা এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি ফলপ্রসূ সমাধানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।