আব্দুল মতিন মুন্সী , [ফরিদপুর প্রতিনিধি]
বোয়ালমারীর বিল অঞ্চলে রাত শেষ হওয়ার আগেই জেগে ওঠে স্বল্প আয়ের মানুষের কর্মযাত্রা। ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় তারা ছুটে যান পানিভরা বিলে। হাতে বাঁশের কুনচি আর জাল দিয়ে বানানো বিশেষ ফাঁদ, লক্ষ্য শুধু একটাই—শামুক কুড়ানো। কারণ সূর্য ওঠার আগেই পানির ওপরে ভেসে ওঠে শামুক, আর রোদ উঠলেই তারা সরে যায় পানির গভীরে। তাই সময়মতো না বেরোলে দিনের রোজগার শূন্য। ভোর থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে শামুক কুড়ানোর এই জীবনযুদ্ধ। দুপুর গড়ালে বিল পাড়ে জমে ওঠে অন্যরকম দৃশ্য, চাপখন্ড ব্রিজ কিংবা বাইরকান্দি এলাকায় সারি সারি শামুকভর্তি নৌকা ভিড়তে থাকে। তখন সেখানে বসে থাকেন বেপারীরা। শামুকভর্তি বাঁশের ছোট ঝুড়ি বিক্রি হয় একশ টাকা দরে। কারও দৈনিক আয় সাতশ টাকা, কারওবা হাজার টাকারও বেশি। শেখর ও পরমেশ্বদী ইউনিয়নের আকাশ মোল্যা, ইলিয়াস শেখদের মতো অনেকেই বলেন, এ কাজ ছাড়া তাদের আর কোনো ভরসা নেই। বর্ষা মৌসুম এলেই শামুক কুড়িয়ে তারা সংসার চালান। দুপুরের পর শুরু হয় অন্য রকম ব্যস্ততা। পরমেশ্বদীর রাব্বি শেখের মতো ব্যবসায়ীরা শামুক কিনে বড় বস্তায় ভরে মুখ সেলাই করেন। বিকেলের মধ্যে সেই বস্তাগুলো ট্রাকে তোলা হয়, গন্তব্য খুলনা-বাগেরহাটের বটতলা বাজার। সেখানেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে শামুক, আর চিংড়ির ঘের মালিকরা সেগুলো কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিনই চলে এ ব্যবসা, চলে আয়ের চক্র। তাই যতদিন বিলে নৌকা চলে, ততদিন বেঁচে থাকে শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের আশা। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় তাদের সংগ্রামের গল্প, আর দুপুর নাগাদ শামুকভর্তি নৌকা যেন সাক্ষ্য দেয় এই জনপদের টিকে থাকার লড়াইয়ের।