এম এ রাজ্জাক (সুমন)মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আজ বিশ্ব ডাক দিবস। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য – ‘জনগণের জন্য ডাক: স্থানীয় পরিষেবা, বৈশ্বিক পরিসর’— দেশের অর্থনীতিতে ডাক বিভাগের গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। একসময়ের নিছক চিঠি আদান-প্রদানের প্রতিষ্ঠান থেকে এটি এখন একটি সার্বিক অর্থনৈতিক সেবাকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে। ডাক বিভাগকে একটি কার্যকর উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের যে আহ্বান এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে, তা এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সাড়ে আট হাজারেরও বেশি ডাকঘরের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (DFS) -এর পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যেখানে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস বা ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে ডাকঘরগুলি ‘সর্বজনীন সেবা কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া চলছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সঞ্চয়কে আরও সহজলভ্য করবে।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, চিঠিপত্রের যুগ শেষ হওয়ায় যে দুর্গতি এসেছিল, আধুনিকায়নের মাধ্যমে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে এই গ্রামীণ অবকাঠামোকে ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) সহায়তা করা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি পণ্য এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে ডাক বিভাগ লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর ও গতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুনভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীরা এই পরিবর্তনের সারথি হচ্ছেন। ডাক বিভাগের এই পুনর্জন্ম কেবল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়, বরং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করবে।+