leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

“চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সম্ভাবনার পথে: সমবায় খাতের রূপান্তরে সরকারি সম্পৃক্ততা”

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯৫ বার পঠিত

মুমতাহিনা আক্তার, বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের উদ্যোগে কিছুদিন আগে কুমিল্লা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রতি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাই। সেখানে উপস্থিত হয়ে জানলাম, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ে সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই শতাব্দীতেও অনেক গ্রামীণ ইউনিয়নের কাঠামো এখনো পুরনো ধাঁচে রয়ে গেছে, এবং ফেডারেশন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত অনেক তথ্য তাদের কাছে নেই। তাই সরকার ও ফেডারেশনের পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রয়াস এবং তাদের সীমাবদ্ধতাও সকলের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হলো।
বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোতে নতুন গতি আনতে কাজ করছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন।

এই মন্ত্রণালয়টি সমবায় সার্বিক তদারকি ও নীতিগত সহায়তা, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন মডেল বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে।এই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন অংশীদারিত্বে বিভিন্ন প্রকল্পকর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে—যেমন গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল সমবায় তথ্যব্যবস্থা, এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি।

এসব উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, একই সঙ্গে সামাজিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতার কাঠামো শক্তিশালী হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমবায় ফেডারেশনটি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সমবায় সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু আধুনিকীকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যেমন “ডিজিটাল সমবায় ব্যবস্থাপনা প্রকল্প” ও “নারী উদ্যোক্তা সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি”।
বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন বর্তমানে দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে হাজারো সমবায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

তবে এর প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এখনও পর্যাপ্তভাবে হালনাগাদ নয়। মাঠপর্যায়ের অনেকে মনে করেন, ফেডারেশনের আর্থিক ও কার্যক্রমিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমেছে এবং অনেক জায়গায় সমবায় কার্যক্রম সমন্বয়হীন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফেডারেশনের এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে সরকারের আরও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (LGRD)–এর নীতিগত তত্ত্বাবধান ও বাজেট সহায়তা ছাড়া ফেডারেশন মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে কাঙ্ক্ষিতভাবে এগিয়ে নিতে পারবে না। বিশেষত প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। ফেডারেশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি Microcredit Regulatory Authority (MRA)–এর সঙ্গেও সমন্বয় করে ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক সমবায়গুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়াও এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। অনেক সমবায় সংগঠন সঠিক আর্থিক প্রতিবেদন, ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ এবং অনলাইন তথ্য হালনাগাদে পিছিয়ে আছে।


তবে এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ফেডারেশনের প্রশাসনিক কাঠামো ও কর্মীসংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।বর্তমানে ফেডারেশনটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো— মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সমবায় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে সমবায় আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা। তবুও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনগণমুখী সংগঠনে রূপ দিতে আগ্রহী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শূন্য পদ রয়েছে এবং শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।


দেশের সমবায় খাত দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ উন্নয়নের একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এবং Microcredit Regulatory Authority–এর সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি আরও পরিকল্পিত ও হালনাগাদভাবে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশে টেকসই, অংশগ্রহণমূলক ও আত্মনির্ভরশীল গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আজকের এই সময়ের বাস্তবতা বলছে— “যৌথ উদ্যোগে নতুন দিগন্ত” কেবল একটি শ্লোগান নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.