চাঁদপুর সদর প্রতিনিধি
গেমের মাঠ থেকে রান্নার কড়াইয়ে: চাঁদপুরের তরুণীর ফুড কার্টে জীবনের নতুন ইনিংস
এতদিন তরুণ প্রজন্মকে ভিডিও গেমসের নেশা নিয়ে নেতিবাচক কথা শোনা গেলেও, আজ আমরা এমন এক তরুণীর গল্প শোনাব, যিনি গেমসের সেই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
একসময় তিনি ছিলেন একজন মোবাইল গ্যামার । দিনের অনেকটা সময় কাটতো ভার্চুয়াল জগতে, ভিডিও গেমসের কঠিন স্তর পেরোনোর চেষ্টায়। বলছিলাম চাঁদপুরের বাসিন্দা এশা আক্তারের কথা।
চারপাশের মানুষের সমালোচনা আর নিজের ভেতরের তাগিদ—এই দুইয়ে মিলে একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন, এই ‘প্যাশন’কে তিনি ভিন্ন পথে চালিত করবেন।
গেমসের স্ক্রিন ছেড়ে তিনি ধরলেন রান্নার কড়াই। পুঁজি বলতে ছিল সামান্য সঞ্চয় আর অফুরন্ত মনোবল। চাঁদপুর শহরের ‘হাসান আলী স্কুল’ মাঠে শুরু করলেন তার স্বপ্নের ফুড কার্ট, নাম দিলেন ‘ই-ক্যাফে’।
তিনি বলেন, – “আসলে গেমসে যেমন একটা চ্যালেঞ্জ থাকে, একটা লেভেল পার করার চেষ্টা, ব্যবসা শুরু করার চ্যালেঞ্জটাও ঠিক তেমনই মনে হয়েছে। অনেকেই শুরুতে হেসেছে, বলেছে, ‘এ ব্যবসা করে কি করবে ?’ কিন্তু আমি আমার সবটুকু মনোযোগ আর সৃজনশীলতা এখানে ঢেলে দিয়েছি। গেমসের মতো এখানেও আমি কাস্টমারদের মন জয় করতে চাইতাম, এবং আমি সে কাজটা করে দেখিয়েছি সফলভাবে ।”
তার ফুড কার্টে পাওয়া যায় মমো , চাওমিন, ক্ষীর ফিরনি , চিকেন রোল
, থেকে শুরু করে নানা ধরনের ফিউশন স্ট্রিট ফুড, যা অল্প সময়েই চাঁদপুরের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। শুধু ব্যবসা নয়, এই তরুণী প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিশা পেলে যেকোনো কাজে ইতিবাচক উদ্যোগ পরিণত হতে পারে বিশাল সম্ভাবনায় । গেমসের মনোযোগ এবং কৌশল তিনি এখন কাজে লাগাচ্ছেন তার ব্যবসার প্রসারে।
খাবারের মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকেও কৌতূহলী কাস্টমার ছুটে আসছেন।
তার এক পছন্দের কাস্টমার বলছেন, “আমরা প্রায়ই এখানে আসি। খাবারগুলো খুব ফ্রেশ আর নতুনত্বে ভরপুর । তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, খুব দ্রুত আর চমৎকারভাবে কাস্টমারদের সাথে মিশে যান, সবার অর্ডার সামলান, যা দেখে মনে হয়, তিনি যেন কোনো খেলার স্ট্র্যাটেজি ফলো করছেন!”
গেমার থেকে সফল উদ্যোক্তা—এই তরুণী আজ চাঁদপুরের আরও অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস । নিজের ভাগ্য নিজে গড়তে চাওয়ার এই স্পৃহা যেন আমাদের সমাজে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এছাড়াও তিনি অনন্য চাঁদপুর গড়তে এই জেলার ছেলে-মেয়েদের সাথে মিশে সম্ভাবনাময় কিছু করার প্রয়াস তার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা আশা ব্যক্ত করে বলছেন , এই উদ্যমী তরুণীর সাফল্য আরও অনেককে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।