leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ আইন প্রাধান্য দেওয়ার অঙ্গীকার ইসলামী আন্দোলনের

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পঠিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা তথা শরীয়াহ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাগ্রত হওয়া জনপ্রত্যাশাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করতেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। ইশতেহারটিকে প্রধানত তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে: রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।

ইশতেহারে ইসলামের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, মানুষের সবচেয়ে বড় যৌথ প্রকল্প রাষ্ট্র ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামের নির্ধারিত, বিস্তৃত এবং বহু শতাব্দি চর্চিত রীতি-নীতি ও বিধিমালা রয়েছে। যার আলোকে ১৩শ বছর মানবসভ্যতা শান্তি ও সমৃদ্ধির সাথে পরিচালিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।

একই সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার চর্চা এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইশতেহারে সকল ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজন করে বৈষম্য করা হবে না।

 

এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ২৮টি খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি দুর্বল ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। রপ্তানি পণ্য একমুখী ও নিবিড় শ্রমনির্ভর। মূলধনী পণ্য-প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য ও নিত্যদিনের খাবার— প্রায় সবই আমদানি করতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান জোগান আসে রেমিট্যান্স থেকে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সিংহভাগই নিম্নস্তরের শ্রমনির্ভর। ফলে আমাদের অর্থনীতি খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত করারোপের মাধ্যমেই আমাদের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে রপ্তানিকে বহুমুখী ও প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক করা হবে। মূলধনী পণ্য আমদানির বদলে নিজেরাই উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। টাকা পাচার পুরোপুরি রোধ করা হবে। অর্থনীতিতে কঠোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঋণের শর্ত ক্রমান্বয়ে কঠিন হওয়া ও ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণ আলোচনায় দক্ষতা ও পেশাদারত্বের উৎকর্ষ বিধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বিশেষত কঠিন শর্তে ঋণগ্রহণের পূর্বশর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.