leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

একনজরে বাংলাদেশের যত জাতীয় নির্বাচন ও ফলাফল

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার পঠিত

স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত দেশে ১৩টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় বার, বিএনপি চার বার ও জাতীয় পার্টি দুই বার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এবার সারাদিন ভোটগ্রহণের পর অপেক্ষা ফলের।

তারআগে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ১২ নির্বাচনের ফলাফল।

প্রথম সংসদ নির্বাচন (১৯৭৩): সদ্য স্বাধীন দেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, বুধবার প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি মো. ইদ্রিস। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও বিরোধী দলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল। নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধু ২৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিতে এই সংসদ ভেঙে যায়।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন (১৯৭৯): ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার অনুষ্ঠিত হয় দেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে দীর্ঘ সময় সংসদীয় গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল এবং দেশ সামরিক শাসনের অধীনে চলে গিয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক পোশাক ত্যাগ করে রাজনীতিতে নামেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসন তুলে দিয়ে একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে বেসামরিক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। বিচারপতি এ কে এম নুরুল ইসলামের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।

তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচন (১৯৮৬-১৯৮৮): ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ তার শাসনকে একটি গণতান্ত্রিক রূপ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালের ৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ অংশ নেয়। তবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে মাঝপথেই আওয়ামী লীগ ভোট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়। জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন নিয়ে জয়ী হলেও এই সংসদের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ভোট ছিল আরও বিতর্কিত। কারণ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি–উভয় দলই এটি বর্জন করে। ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ নিয়ে গঠিত এই সংসদ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। এর ফলে রাজপথে শুরু হয় প্রচণ্ড গণ-আন্দোলন।

নব্বইয়ের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকার দিশাহারা হয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যের কাছে নতি স্বীকার করে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার পতনের মধ্যদিয়েই দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশে পুনরায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অবাধ নির্বাচনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন (১৯৯১): ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, বুধবার প্রথমবারের মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অধীন এই ভোট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে। পরাজয় মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভূমিকা নেন। এই সংসদ প্রায় পূর্ণ মেয়াদ অতিবাহিত করেছিল।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬): ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল এই ভোট বর্জন করে। একতরফা এই নির্বাচনে কেন্দ্র দখল এবং ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ আসনেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। ফলে নবনির্বাচিত এই সংসদ নৈতিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন (জুন ১৯৯৬): ফেব্রুয়ারির সেই অস্থিতিশীলতার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, বুধবার সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম নির্বাচন। বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীন এই ভোট ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং জাসদ ও জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করে।

ফেব্রুয়ারির সহিংসতার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় জুনের এই ভোটে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসাহ লক্ষ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা একটি ছোট কিন্তু কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন (২০০১): ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, সোমবার দেশের অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো সফলভাবে ৫ বছর পূর্ণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও, এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত।

বিচারপতি লতিফুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটান। ১৩ জন সচিবকে ওএসডি করা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগকে ক্ষুব্ধ করে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

নবম সংসদ নির্বাচন (২০০৮): ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনের পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ এবং দীর্ঘ দুই বছরের এক বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ফসল।

২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াত জোটের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজপথে তীব্র সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিতর্ক চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (যা ইতিহাসে ১/১১ নামে পরিচিত) সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের পেছনে সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল মইন উ আহমদের প্রকাশ্য সমর্থন থাকায় একে ‘সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ বলা হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন: ২০০৯ সালের নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার খুবই সমালোচনামুখর ছিল। ক্ষমতায় ফিরে তিনি সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন। উদ্দেশ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা। তবে ২০১১ সালের জুনে সংসদের যে অধিবেশনে এই সংশোধনী নিয়ে ভোট হয়, তা বিএনপি বর্জন করে। সংসদে ২৯১ ভোটের বিপরীতে মাত্র ১ ভোটে সংশোধনীটি পাস হয়।

এ সময় সরকার বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করা হয়। অন্যান্য বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার বহু অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন দিনে বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা ভোটে অংশ নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ সহজেই আবার ক্ষমতায় আসে। দলটি সংসদে ২৩৪টি আসনে জয় পায়। বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে এই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে অবৈধ বলে সমালোচনা করা হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচন:  আওয়ামী লীগের সুপার মেজরিটি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালু হয়। তবে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল অভিযোগ তোলে, আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট নির্বাচন কারচুপি করেছে। উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতা হয়। ভোট জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে।

এই সময় আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করে। দলটি তখন বিএনপির মিত্র ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার সরকার গঠিত ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার হয় এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ভোটের আগে সরকার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। সরকারের দাবি ছিল, ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। বিএনপির দাবি ছিল, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর খালেদা জিয়া খালাস পান। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট সংসদের ৯০ শতাংশের বেশি আসনে জয় পায়। এই নির্বাচনও ব্যাপকভাবে প্রহসন হিসেবে বিবেচিত হয়।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: শেখ হাসিনার শাসনামলে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। এই সময় পর্যন্ত তিনি বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখেন। ১৯৭২ সালে গঠিত নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে মনে করা হতো।

বিরোধী বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী তখনও নিষিদ্ধ ছিল। এর ফলে শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন। তার সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারে পরিণত হয়। দেশ কার্যত আবার একদলীয় ব্যবস্থার দিকে চলে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.