leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

মাইগ্রেন পেইন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেনে চলুন এসব নিয়ম

  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত
মাথাব্যথা খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। তবে, সব ধরনের মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথার ১৫০টিরও বেশি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে মাইগ্রেন একটি বিশেষ ধরনের প্রাইমারি হেডেক। এটি অন্য কোনো শারীরিক রোগের ফল নয়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনকে বেশ কঠিন করে তুলতে পারে। তাই মাইগ্রেন পেইন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ব্যক্তিগত ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করলে মাইগ্রেন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাইগ্রেনের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, মস্তিষ্কের স্নায়ু ও রক্তনালির কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তনের ফলে এটি দেখা দেয়। পাশাপাশি কিছু বিষয় মাইগ্রেনের আক্রমণকে উসকে দিতে পারে। যেমন-
-অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো
-মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তি
-হরমোনের পরিবর্তন
-পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
-দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা
-অতিরিক্ত ভ্রমণ
-চকলেট, পনির, কফিসহ কিছু খাবার ও পানীয়
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা প্রায় ৩ গুণ বেশি। বিশেষ করে মাসিক, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে অনেকের মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে।
মাইগ্রেন নির্ণয়ের জন্য সাধারণত রক্ত পরীক্ষা বা বিশেষ কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। তওব, মাইগ্রেনের আক্রমণের আগে বা ব্যথার সময় বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
-মাথার এক পাশে তীব্র ব্যথা
-আলো, শব্দ বা গন্ধে অস্বস্তি
-বমিভাব বা বমি
-চোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর ঝলকানি
-মাথা ঘোরা
-মনোযোগ কমে যাওয়া
-অতিরিক্ত ক্লান্তি
শুধু ওষুধ নয়, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও মাইগ্রেনের আক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান
খাদ্যতালিকায় কলা, ওটস, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ ও ডার্ক চকলেট রাখতে পারেন। বমিভাব কমাতে আদাও উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘুম
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ব্যথার সময় কপালে ঠান্ডা পানির জলপট্টি দিলে সাময়িক আরাম মিলতে পারে।
ক্যাফেইন ও কোমল পানীয় সীমিত করুন
অতিরিক্ত চা, কফি বা কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই ভালো।
স্ট্রেস কমান
নিয়মিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম কিংবা হালকা শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
স্ক্রিন ব্যবহারে বিরতি নিন
দীর্ঘ সময় একটানা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কাজ না করে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নিন। প্রয়োজন হলে সানগ্লাস বা উপযুক্ত পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে পারেন।
মাইগ্রেন ডায়েরি রাখুন
কখন মাথাব্যথা হচ্ছে, কী খাওয়ার পর হচ্ছে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যথা বাড়ছে- এসব লিখে রাখুন। এতে ব্যক্তিগত ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হবে এবং চিকিৎসকের জন্যও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
নিজের ইচ্ছামতো ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। যদি মাইগ্রেনের ব্যথা বারবার হয়, তীব্রতা বাড়ে বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মাইগ্রেন পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও, সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.