ঢাকা, ৭ই আগস্ট, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ‘অসম্পূর্ণ জুলাই ঘোষণাপত্র’র প্রতি নীরব প্রতিবাদ জানাতে কক্সবাজার সাগর সৈকতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এটিকে ঘোষণাপত্রটির বিষয়ে তার দলের অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে এই ঘোষণাপত্রটি পাঠ করা হয়। তবে, হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির অনেক নেতাই মনে করেন, এই ঘোষণাপত্রটি গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, ঘোষণাপত্রটি প্রণয়নের সময় আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি, শহীদদের পরিবার এবং আহতদের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, দলের পক্ষ থেকে হাসনাত আবদুল্লাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে, তার জবাবে তিনি তার কক্সবাজার ভ্রমণের কারণ হিসেবে এই নীরব প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, “যেখানে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজন, শহীদ এবং আহতদের পরিবর্তে কিছু মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর কথা এবং মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে উপস্থিত থাকার কোনও ইচ্ছা বা প্রয়োজন আমি বোধ করিনি।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি শুরু থেকেই একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি করে আসছেন, যা রাষ্ট্রের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাবে। তার মতে, বর্তমান জুলাই ঘোষণাপত্রটি এই লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই নীরব প্রতিবাদটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিদ্যমান ভিন্নমতের প্রতিফলন ঘটায়।