leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

প্রেমে ছেঁকা থেকেই তারকা বনে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯১ বার পঠিত

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই যখন হতাশায় নিমজ্জিত হন, তখন সেই heartbreak কেই সাফল্যের সোপান হিসেবে ব্যবহার করেছেন রিপন মিয়া। প্রেমিকার কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যাখ্যান তাকে ঠেলে দিয়েছিল এক নতুন পথে, যে পথ তাকে আজ পরিচিতি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। গ্রামের সহজ-সরল জীবনযাত্রা আর সাধারণের ভাষায় কথা বলে তিনি জয় করে নিয়েছেন লাখো মানুষের মন।

রিপন মিয়ার জীবন আর দশটা সাধারণ তরুণের মতোই ছিল। কাঠমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু কৈশোরে এক মেয়ের প্রেমে পড়েন তিনি এবং সেই প্রেম তার জীবনে গভীর ছাপ ফেলে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর রিপন মিয়া হতাশায় ডুবে না গিয়ে বেছে নেন সৃজনশীলতার পথ। নিজের আবেগ আর অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা বেছে নেন।

“ক্রিঞ্জ” ভিডিও থেকে পথচলার শুরু প্রথম দিকে রিপন মিয়ার ভিডিওগুলোকে অনেকেই “ক্রিঞ্জ” বা বিরক্তিকর বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার ভিডিওর বিষয়বস্তু ছিল মূলত তার ছন্দ মেলানো কথা এবং গ্রামীণ জীবনের সাধারণ চিত্র। কখনও তাকে দেখা যেত প্রচণ্ড গরমে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে, কখনও গ্রামের রাস্তায় সাইকেল চালাতে, আবার কখনও বা ইংরেজী পত্রিকা পড়ার অভিনয় করতে। এই সহজ-সরল এবং কিছুটা অদ্ভুত উপস্থাপনা প্রাথমিকভাবে অনেকের কাছেই হাসির খোরাক জোগায়।

কিন্তু এই আপাত “ক্রিঞ্জ” কন্টেন্টের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক অকৃত্রিম সারল্য, যা ধীরে ধীরে নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। বিশেষ করে তার প্রথম দিকের একটি ভিডিও, যেখানে তিনি তার প্রেমিকার উদ্দেশ্যে ছন্দ মিলিয়ে বলেন, “বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিও ডাক, তোমার সঙ্গে গল্প করব আমি সারারাত,” দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর “আই লাভ ইউ” বলে তার স্বভাবসুলভ হাসি তার সিগনেচার স্টাইলে পরিণত হয়।

সংগ্রাম এবং ঘুরে দাঁড়ানো তবে সাফল্যের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। জনপ্রিয়তার প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে অনেক संघर्ष করতে হয়েছে। তার বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক হয়ে যায়, যার ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একটা সময় তিনি কনটেন্ট তৈরি করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন এবং নিজের পুরনো পেশা কাঠমিস্ত্রির কাজেই পুরোপুরি মনোযোগ দেন।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যমের শক্তি এবং তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা তাকে আবার ফিরিয়ে আনে। নতুন করে শুরু করার পর তিনি তার কনটেন্টের ধরনেও পরিবর্তন আনেন। এবার তিনি আরও বেশি মনোযোগ দেন তার গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং নিজের সরল জীবনযাত্রাকে তুলে ধরার ওপর। তার এই অকৃত্রিম উপস্থাপনাই তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে।

আজ রিপন মিয়া শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরই নন, বহু তরুণের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। তার ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটক মিলিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ অনুসারী। প্রেমে ব্যর্থতার মতো একটি ব্যক্তিগত বিপর্যয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দেখিয়েছেন যে, সততা, সরলতা এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে যেকোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তার গল্প প্রমাণ করে, জীবনের যেকোনো আঘাতই হতে পারে এক নতুন সূচনার উপলক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.