আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি
আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, [ববি প্রতিনিধি]
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শিক্ষার্থীদের আড্ডা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও সেটি এখন নীরবতা আর সীমাবদ্ধতার প্রতীক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টিএসসি প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। এমনকি নিয়মিত দিনগুলোতেও খোলার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলেও এখানে বসে আড্ডা বা সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারেন না। ক্যাফেটেরিয়াটিও অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হচ্ছে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে টিএসসি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, শিল্পচর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার জায়গা। একাডেমিক চাপ থেকে মানসিক প্রশান্তির বড় মাধ্যম এটি। অথচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে, অনেক সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে।”
বর্তমানে ববিতে ৩৫টিরও বেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয় থাকলেও টিএসসিতে অফিস স্পেস পেয়েছে মাত্র কয়েকটি সংগঠন। এতে মুক্ত বুদ্ধি ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি রুম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, অথচ তা শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেত।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিন বলেন, “টিএসসির একটি ফ্লোর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন টিএসসির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও রুম বরাদ্দ দেয়, সেটাই আমাদের দাবি।”
অভিযোগের বিষয়ে টিএসসির পরিচালক মো. তারিকুল হক বলেন, “প্রথমত জায়গা সংকটের কারণে সবার জন্য রুম বরাদ্দ সম্ভব হচ্ছে না। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এ সমস্যা কেটে যাবে। ছুটির দিনে টিএসসি খোলা না রাখার কারণ স্টাফ সংকট। নতুন স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আর টিচার্স স্টুডেন্ট সেন্টারে শিক্ষকদের জন্য একটি রুম বরাদ্দ থাকাটা নিয়মবহির্ভূত নয়।”
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, টিএসসির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হলে তারা একাডেমিক চাপ থেকে মুক্তি নিয়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি যুক্ত হতে পারবেন। এতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ হবে প্রাণবন্ত ও গতিশীল।