রাশিদুল ইসলাম ,প্রতিনিধি, (কালিয়াকৈর)গাজীপুর
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বাগানবাড়িতে আবারো এক দুঃসাহসিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের অতর্কিত হামলায় গরু হারিয়েছেন দুজন কৃষক। চুরির ঘটনায় এক গৃহস্থ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই শক্তিশালী চোরচক্রের অব্যাহত তৎপরতায় এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই চক্রের কারণে মানুষ গরু পালতে ভয় পাচ্ছে।
জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে (আনুমানিক রাত আড়াইটা) সংঘবদ্ধ চোরচক্র প্রথমে বাগানবাড়ির বাসিন্দা রাশিদুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে চোরেরা রাশেদুলের ঘরের দরজা বাইরে থেকে দড়ি দিয়ে খুঁটির সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এরপর তারা রাশেদুলের গোয়ালে ঢুকে তার গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
রাশিদুল ইসলাম জানান, রাত আড়াইটার দিকে গোয়াল থেকে শব্দ পেয়ে তার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে বাঁধা। তিনি চিৎকার শুরু করেন এবং দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তার ডাকাডাকিতে পাশের বাড়ির আশরাফ আলী এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। লোকজন জড়ো হওয়ার শব্দে চোরচক্র দ্রুত গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে চোরেরা রাশিদুলকে আঘাত করে এবং তার গরু ছাড়া রেখেই পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজন এসে রাশেদুলকে উদ্ধার করেন এবং তার হারানো গরু উদ্ধারে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে এর মধ্যেই চোরচক্র দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালায়।
এদিকে, পাশের বাড়ির কৃষক আশরাফ আলী নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে দেখেন তার গোয়ালের তালা ভাঙা এবং প্রায় ২ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি দুগ্ধবতী গাভী নেই! একই রাতে এই শক্তিশালী চোরচক্রের হাতে দুজন কৃষক সর্বস্বান্ত হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রাশিদুল ও আশরাফ আলী সহ এলাকাবাসী জানান, “এই চোরের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না এই চোরচক্রকে। তাদের এতটাই শক্তি ও সাহস যে তারা রাতের বেলা ঘরে মানুষকে বেঁধে রেখে অনায়াসে চুরি করে চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষরা এই আতঙ্কের কারণে এখন গরু পালতে সাহস পাচ্ছি না। রাতে আমাদের বিনিদ্র রাত কাটাতে হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন এই শক্তিশালী চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুক এবং এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। এই বিষয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।