
খলিফা আবু বকরের (রা.) ইরাক জয়ের পরিকল্পনা ছিল সুদূরপ্রসারী ও সুপরিকল্পিত। রিদ্দা যুদ্ধ (মুরতাদ দমন) শেষ করেই তিনি পারস্য সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা ইরাকে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনায় ছিল মূলত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে শক্তিশালী বাহিনী প্রেরণ, ধাপে ধাপে ইরাকের সীমান্ত শহর দখল, এবং পারস্যের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা, যা দ্রুত বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে
ইরাক জয়ের পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:
সামরিক রণকৌশল: খলিফা আবু বকর খালিদ বিন ওয়ালিদকে এক শক্তিশালী বাহিনী দিয়ে ইরাকের সীমান্ত অঞ্চলে পাঠান । তিনি বাহিনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কৌশলগত অবস্থান নেন।
ধাপে ধাপে বিজয়: ইরাকের সীমান্তবর্তী শহরগুলো থেকে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পারস্যের দুর্বলতার সুযোগ: খলিফা বুঝতে পেরেছিলেন যে, পারস্য ও বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগ নিয়ে তিনি দ্রুত আঘাতের পরিকল্পনা করেন ।
সামরিক দিকনির্দেশনা: তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদকে স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে ভালো আচরণ এবং যুদ্ধের নৈতিকতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন (যেমন: নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা না করা, গাছপালা ধ্বংস না করা)।
বেসামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন: স্থানীয় আরব গোত্রগুলোকে পারস্যের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল ।
খলিফা আবু বকরের এই পরিকল্পনা দ্রুতই ইরাকের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর মুসলিম বাহিনীর দখলে নিয়ে আসে।