leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

কী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তিতে?

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৪০ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ বা শর্তসাপেক্ষ চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে অর্থাৎ কেবল শর্ত মানলেই সুবিধা পাবে ইরান।
১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আর্থিক অবদান বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়া, এই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভার্সাই প্রাসাদে ইরান চুক্তির মুহুর্তে ট্রাম্প 
যদিও চুক্তির অনেক বিষয় এখনও অমীমাংসিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয় এখনও অনির্ধারিত, তবুও মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
  • ১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান

  • চুক্তির প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘সব ফ্রন্টে’ অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।
  • এতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো পক্ষই সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে।
  • ২. অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা
  • দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।
  • ৩. ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা
  • চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।
  • ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার
  • চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও নৌপথে আরোপিত অবরোধ ও প্রতিবন্ধকতা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করবে। ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
  • ৫. হরমুজ প্রণালি
  • ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
  • ৬. ইরানের পুনর্গঠন তহবিল
  • যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি অর্থ দেবে না।
  • ৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
  • যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।
  • ৮. পারমাণবিক অস্ত্র না রাখা
  • ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা ক্রয় করবে না বলে সম্মত হয়েছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
  • ৯-১০. বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা
  • চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি ‘স্ট্যাটাস কো’ অবস্থায় থাকবে এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না।
  • ১১. জব্দ অর্থ মুক্ত করা
  • ইরানের আটকে থাকা অর্থ ধাপে ধাপে মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
  • ১২-১৪. নজরদারি ও চূড়ান্ত আলোচনা

  • চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রক্রিয়া গঠন করা হবে। এরপর দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরু করবে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.