leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে মার্কিন চাপের মুখে পড়তে পারে ইসরাইল

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত

দক্ষিণ লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ক্রমান্বয়ে সেনা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি দাবির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’ সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি ইসরাইলের তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরাইলি বাহিনী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় মাঠপর্যায়ে তাদের সেনা পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে ‘কান’ জানিয়েছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটন চাপ দিতে পারে—ইসরাইল এখন এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

 

এদিকে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি বিশেষ প্রক্রিয়া বা মেকানিজম অনুমোদন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই তদারকি ব্যবস্থায় ইরান ও কাতারের অংশগ্রহণ থাকলেও ইসরাইলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। ইসরাইলি সূত্রের দাবি, ইরানের সম্পৃক্ততার কারণেই মূলত ইসরাইলকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার ইসরাইলের ‘চ্যানেল ১৩’ একজন ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইসরাইলকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া সামরিক অভিযান চালানোর যে স্বাধীনতা আগে ইসরাইল পেত, তার অবসান ঘটেছে।

লেবানন ইস্যু নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে বাড়তে থাকা মতপার্থক্যের বিষয়টি হিব্রু দৈনিক ‘মাআরিভ’-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটন দক্ষিণ লেবানন পরিস্থিতিকে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের মূল্য, ইরানের পরমাণু চুক্তি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্টার মতো বিস্তৃত আঞ্চলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে।

এর বিপরীতে, ইসরাইলের ধারণা, দক্ষিণ লেবানন থেকে যেকোনো ধরনের আগাম সেনা প্রত্যাহারকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যা হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর জন্য একটি পুরস্কার হিসেবে কাজ করবে।

 

এই নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার এক ম্যারাথন আলোচনার পর। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অমীমাংসিত বিষয়গুলো, বিশেষ করে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা ও লড়াই বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, লেবানন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে রেখেছে, যার কিছু অংশ তারা কয়েক দশক ধরে এবং বাকি অংশ ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.