leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

‘আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করেন’— বলা সেই ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৭ বার পঠিত

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোরের কোতয়ালির ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি ও কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম এ অভিযানে ছিল।সেখানে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশও ছিল। পরে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক সমকালকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে তার ব্যাপারে কাজ করছিলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে যশোর পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য সহযোগীরাও আমাদের গোয়েন্দা জালে রয়েছে। অচিরেই তাদের ধরা হবে। ’

ডেবিট ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।

হামলার দু’দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমার নাম ডেভিড ইমন, আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’ ওই হুমকির দুদিন পর নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা ডিডিএন অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।’

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি ও চুরি অভিযোগে এসব মামলা দায়ের হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.