একইভাবে গত বৃহস্পতিবার তিন বছর মেয়াদে ৫০০ কোটি টাকা তোলা হয় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ সুদে। আগের নিলাম গত ৮ জুলাই এ ক্ষেত্রে সুদহার ছিল ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। আর গত জুনে যা ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল। গত বছরের জুনে সুদহার ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
শুধু বন্ড নয়; ট্রেজারি বিলের সুদহারও দ্রুত কমছে। গত ৩ আগস্ট ৯১ দিন মেয়াদি বিলের বিপরীতে সরকার তিন হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। যেখানে সুদহার নেমেছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে আড়াই হাজার কোটি টাকা এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে দুই হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ সুদে।
গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের নিলামে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে ৯ দশমিক ৭৯, ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে ৯ দশমিক ৯৯ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে সুদহার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। গত বছরের জুনে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে গড়ে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে সুদহার ছিল ১২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও অন্যান্য ক্ষেত্রের আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় সাড়া মিলছে না। আবার উচ্চ খেলাপির কারণে যেনতেন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা দেখাচ্ছে। এ সময়ে উদ্বৃত্ত তারল্য নিয়ে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছে বিল-বন্ডে। এর ফলে ব্যাংক খাতে এখন তিন লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এ প্রবণতা আমানত রাখার ক্ষেত্রে সুদহারের পাশাপাশি যথাসময়ে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একটি সময় কেবল সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও এখন বিল-বন্ডের দিকে ঝুঁকেছে। যে কারণে সব দিক থেকে চাপ তৈরি হয়ে সুদহার এভাবে কমছে।