
২০২৪ সালে বার্সেলোনার দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে বেকার থাকা ৪৬ বছর বয়সী জাভি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাভি হার্নান্দেজ। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত ডাচদের দায়িত্ব সামলাবেন বার্সেলোনার সাবেক এই কিংবদন্তি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার কোচের পদ ছাড়ার পর থেকেই কোচিংয়ের বাইরে ছিলেন জাভি। এবার রোনাল্ড কোম্যানের উত্তরসূরি হিসেবে জাতীয় দলের দায়িত্বে ফিরছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকে নেদারল্যান্ডস বিদায় নেওয়ার পর কোম্যান দায়িত্ব ছাড়েন।
মজার বিষয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে কোম্যানের স্থলাভিষিক্তও হয়েছিলেন জাভি। এবার একই কোচের জায়গা নিলেন নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে।
বার্সেলোনায় জাভির শুরুটা ছিল সাফল্যে ভরা। ২০২২-২৩ মৌসুমে তাঁর অধীনে স্প্যানিশ সুপার কাপ ও লা লিগা জেতে কাতালান ক্লাবটি। তবে পরের মৌসুমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি হারান জাভি। নিজের শেষ মৌসুমে বার্সেলোনায় কাঙ্ক্ষিত ‘উচ্চ মান’ ধরে রাখতে না পারাকেই বরখাস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন তিনি। এবার নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিয়ে সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে চান সাবেক এই মিডফিল্ডার।
নেদারল্যান্ডসও বর্তমানে পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। বিশ্বকাপের আগে শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে থাকা ডাচদের নিয়ে এবার বড় প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রথম পরীক্ষাতেই বিদায় নিতে হয় তাদের। দীর্ঘদিনের ‘কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ’ হওয়ার গল্প এবারও বদলাতে পারেনি দলটি। এই পরিস্থিতিতে জাভিকেই নতুন উদ্যমের উপযুক্ত কোচ হিসেবে দেখছে ডাচ ফুটবল ফেডারেশন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত জাভি। তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অসাধারণ সম্মানের।’ বার্সেলোনা একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা জাভির সঙ্গে ডাচ ফুটবলের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। ইয়োহান ক্রুইফ, রিনুস মিশেলস, লুই ফন গাল ও ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো ডাচ ফুটবলের কিংবদন্তিদের প্রভাব তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে বলে জানান তিনি। ‘আপনি বলতে পারেন, আমি ডাচ ফুটবলের কিছুটা সন্তান,’ বলেন জাভি।
ডাচ ফুটবলের দর্শনের সঙ্গেও নিজের কোচিং দর্শনের মিল দেখছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য বল দখলনির্ভর, আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল ফুটবল খেলানো। জাভির ভাষায়, নেদারল্যান্ডসের রয়েছে সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি ও পরিষ্কার একটি দর্শন—বল দখলের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণাত্মক ফুটবল, যেখানে থাকবে সৃজনশীলতা, আবেগ ও আত্মবিশ্বাস।
তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য শুধু জেতা নয়, দর্শকদের উপভোগ করার মতো ফুটবল খেলিয়ে জেতা।
জাভির নিয়োগ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন একটি প্রবণতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে জাতীয় দলগুলো সাধারণত নিজেদের দেশের অভিজ্ঞ কোচদের ওপর আস্থা রাখত। এখন বড় দলগুলো ক্লাব ফুটবলে সাফল্য পাওয়া বিদেশি কোচদের দিকে বেশি ঝুঁকছে
ব্রাজিলের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যিনি এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। ইংল্যান্ডের কোচ জার্মান থমাস টুখেল, যিনি চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। যুক্তরাষ্ট্রও আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়েছে। টটেনহাম, পিএসজি ও চেলসির মতো বড় ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
সব মিলিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে জাতীয় দলগুলোর ডাগআউটে আরও বেশি তারকা কোচ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো জাভির নামও।