
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করায় দলের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত চার সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
তারা বলেন, ‘দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার এ সিদ্ধান্ত বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করবে। নবনিযুক্ত চার সদস্য তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
জাতীয় স্থায়ী কমিটি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম উল্লেখ করে ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে নতুন চার সদস্যের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাজনীতি, চিকিৎসা ও পেশাজীবী অঙ্গন এবং প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয় ঘটেছে।
তারা বলেন, ‘খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, স্বনামধন্য চিকিৎসক, বিশিষ্ট পেশাজীবী ও অভিজ্ঞ আমলাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের প্রতি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।’
ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট ও মহাসচিব নবনিযুক্ত সদস্যদের রাজনৈতিক, পেশাগত ও প্রশাসনিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তারা বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে দলের নানা সংকটময় ও প্রতিকূল সময়ে তিনি সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অসংখ্য মামলায় কারাবরণ করেছেন।’
অন্যদিকে আমান উল্লাহ আমান বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দুইবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী নেতা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের (বিএমএসআরআই) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।
এর আগে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক নবনিযুক্ত সদস্য মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক জীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরবর্তীকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে তিনি প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনসহ দলের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট ও মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নবনিযুক্ত চার সদস্যই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের গুণাবলির পরিচয় দিয়েছেন। রাজনীতি, পেশাজীবী অঙ্গন ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে তাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় নিঃসন্দেহে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
তারা আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ চার নেতা তাদের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী চিন্তাধারার মাধ্যমে বিএনপিকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে তাদের সুচিন্তিত মতামত, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। পরিশেষে, ইউট্যাব পরিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নবনিযুক্ত চার সদস্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করছে।’