leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

মাদক না পেলেও ডিজিটাল তথ্যে অপরাধী– উঠছে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। এতে অনলাইনকেন্দ্রিক মাদক কারবার ঠেকানো, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, অস্ত্র ব্যবহার, ডগ স্কোয়াডসহ নানা বিষয় যুক্ত হয়েছে। তবে এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেমন রয়েছে চ্যালেঞ্জ, তেমনি উঠেছে কিছু প্রশ্নও। বিশেষ করে সঙ্গে মাদক পাওয়া না গেলেও শুধু ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহারের শঙ্কার কথা বলেছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ সমকালকে বলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিশ্চিত প্রমাণ সাপেক্ষেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আইন অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি কখনও এমন ঘটে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংশোধিত আইনের ফলে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান পেয়েছে ডিএনসি। বিশেষ করে ‘সাইবার স্পেস’ ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ শাখা ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি খুবই জরুরি ছিল। মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারে ট্রাইব্যুনাল, সব থানায় মাদক মামলার জন্য আলাদা ডেস্ক সুফল বয়ে আনবে।
গত ১৩ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর ১৬ জুলাই এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত ও কার্যকর হয়। এখন এ আইনের আওতায় বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির এই যুগে অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যে কারও নামে চ্যাট এবং ভয়েস ক্লোন করা সম্ভব। কারও অজান্তে তার মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠিয়ে বা শত্রুতা করে চ্যাটবক্সে ফাঁদে ফেলে কাউকে অপরাধী সাজানোর সুযোগ থাকছে। আবার মাদক কারবারিরা মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে যোগাযোগ করলেও সাধারণত সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন। ক্রেতা হয়তো বললেন, ‘তিন প্যাকেট দেন।’ এর মাধ্যমে তিনি প্যাকেটে থাকা ৩০০ পিস ইয়াবা চাইলেন। বিক্রেতা বললেন, ‘আচ্ছা ৬০ পাঠিয়ে দেন।’ অর্থাৎ, তিনি ৬০ হাজার টাকা দাম চাইলেন। ডিএনসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি ধরতে পেরে তাকে আটক করলেন। কিন্তু এই সাংকেতিক কথোপকথন আদালতে প্রমাণ করা শক্ত হতে পারে। তখন গ্রেপ্তার ব্যক্তি হয়তো বললেন, তিনি তো আমার কাছে তিন প্যাকেট ন্যাপথলিন চেয়েছেন। সেই বাবদ আমি ৬০ টাকা চেয়েছি। আবার উল্টোটাও হতে পারে যে, সত্যিই কেউ ন্যাপথলিনই কিনেছেন, কিন্তু মাদক সন্দেহে ফেঁসে যেতে পারেন।
ডিএনসির অভিযানিক কার্যক্রমে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তারা এ সমস্যা স্বীকার করে বলেন, কথোপকথনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য আইন প্রয়োগে যুক্ত সবার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দরকার।

অবশ্য ডিএনসির দায়িত্বশীলরা বলছেন, সন্দেহভাজনদের ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা ও সাইবার স্পেসে তাদের পদচারণা বিশ্লেষণ করে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে মাদক কারবার ঠেকানো যাবে। আবার নিবিড়ভাবে ‘ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি)’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদক লেনদেনের আগাম তথ্য পাওয়া সম্ভব।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাদক-সংক্রান্ত মামলার ৪০ ভাগই ভুয়া। নানাভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আবার আসামি গ্রেপ্তারের পর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণ সংগ্রহ-সংরক্ষণ করা হয় না, সাক্ষী পাওয়া যায় না। এতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছাড়া পেয়ে যান। তারা আবারও একই অপরাধে জড়ান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.