
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি ও সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো এই সভায় অংশ নেন তামিম ইকবাল। মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন এসিসির এই সভায় মহাদেশীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও উন্নয়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় এসিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশাসনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চমক ছিল আফগানিস্তানকে ঘিরে। এতদিন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যেই ঘুরেফিরে এসিসি সভাপতির দায়িত্ব বণ্টন হতো। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (এসিবি) এসিসিতে সভাপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এছাড়া সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসিসির নতুন সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি খালিদ আল জারুনি। পাশাপাশি ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য নতুন নির্বাহী সদস্য ও বিভিন্ন কমিটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
টেস্ট খেলেনি এমন পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কাতার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আবদুল আজিজ বিন সৌদ আল থানি এবং সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ গাজনাভিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সহযোগী সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মালদ্বীপের মোহাম্মদ ফয়সাল ও বাহরাইনের মোহাম্মদ মনসুর।
নবগঠিত কমিটিগুলোর বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে এসিসি। তবে বাংলাদেশি একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর, এবারের সভায় এসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। যদিও তামিম নিজে কিংবা বিসিবির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পরই হয়তো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবে।
এদিকে এশিয়ান ক্রিকেটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি সভায় বলেন, ‘এশিয়ায় ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও প্রজন্মকে এক সুতোয় বাঁধার একটি মাধ্যম। আমাদের আজকের এসব সিদ্ধান্ত এশিয়ার ক্রিকেটকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে।’