leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

যন্ত্রাংশের নামে খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা, মোংলায় এআইয়ে শনাক্ত

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে আসলে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা করা হয়েছিল। গাড়িগুলোকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে এনে যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখানো হয়। মোংলা বন্দরে আসা একটি চালান পরীক্ষা করে এমন কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, চালানটিতে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এসব গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

অন্যদিকে, পুরো চালানটিকে ১৪ ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

যেভাবে ধরা পড়ে

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি মোংলা বন্দরে আসে।

মোট ১৬৪ প্যাকেজের ওই চালানে ব্যবহৃত গাড়ির দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ার, শক অ্যাবজর্বার, হেডলাইট, টেললাইট, বাম্পার, স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস আটকে দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা। পরে ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা নম্বর, চিহ্ন, স্টিকার ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

যন্ত্রাংশ নয়, আনা হয়েছিল গাড়ির বড় অংশ

পরীক্ষায় দেখা যায়, চালানটিতে সাধারণ আলাদা আলাদা গাড়ির যন্ত্রাংশের পরিবর্তে গাড়ির সামনের ও পেছনের সম্পূর্ণ অংশ, সামনের-পেছনের কাঠামো এবং ছাদের অংশসহ বড় বড় অংশ রয়েছে।

এসব অংশে তারের সংযোগ, বিভিন্ন সেন্সর ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও সংযুক্ত ছিল। এতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা হয়, গাড়িগুলোকে সম্পূর্ণ যন্ত্রাংশে ভেঙে না ফেলে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, এসব অংশ জোড়া লাগালে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

শনাক্ত চার বিলাসবহুল গাড়ি

চালান থেকে শনাক্ত করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ। যুক্তরাজ্যে তৈরি এ গাড়িটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আইয়ের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া জাপানে তৈরি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের মডেল জিআরএস২০৪। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

ইনভয়েসে মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চারটি গাড়ির অংশ থাকা পুরো চালানের ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। অন্যান্য খরচসহ শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে শুল্ক-কর ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাই ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের চারটি গাড়িকে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখিয়ে কম মূল্যে শুল্ক পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে।

শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত নয়

তবে এ ঘটনায় প্রকৃত কত টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, গাড়িগুলোকে সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, খণ্ডিত অবস্থায় থাকা সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করে শুল্ক নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। গাড়ির মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার পরই সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও তাতে যদি সম্পূর্ণ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য বা ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বজায় থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে।

এ ঘটনায় আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ও উঠে এসেছে। চালানটিকে এসকেডি অবস্থায় মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের মতামত দিয়ে কাস্টম হাউস, মোংলায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করা, শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া এবং যন্ত্রাংশের আড়ালে পুরো বা খণ্ডিত গাড়ি আমদানির চেষ্টা ঠেকাতে তাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.