গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার বাড়িতে জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে প্রায় ১১ লাখ টাকা। উপজেলার বরমী ইউনিয়নের খলারটেক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের বাড়িতে এই অবিশ্বাস্য বিল পাঠিয়েছে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। এই ঘটনায় হতবাক হয়ে এবং গ্রেফতারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি সারাদিন ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান। তার টিনশেডের বাড়িতে দুটি ফ্যান, দুটি বাতি ও একটি ফ্রিজ ছাড়া তেমন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নেই। প্রতি মাসে তার বাড়িতে সাধারণত ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু জুলাই মাসের বিল দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। বিলের কাগজে দেখা যায়, তার মোট বিল এসেছে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৯০৫ টাকা।
বিস্ময়কর এই বিলের বিষয়ে জানতে পেরে আব্দুল মান্নান ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। লোকমুখে বিল পরিশোধ না করলে মামলার শিকার হওয়ার কথা শুনে তিনি ভয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে।
এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের ম্যানেজার আনোয়ারুল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এটি একটি ভুল হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, বিল প্রস্তুতকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে বিলটি সংশোধন করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।