ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেন-জি রেভোলিউশন’ সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার।
গতকাল সোমবার বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ছোড়ে। বেশ কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ গুলিও চালিয়েছে। এই সংঘর্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সম্প্রতি সরকারের ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে, যা দেশটির তরুণ সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্ম স্থানীয় আইন মেনে নিবন্ধন না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সমালোচনার কণ্ঠরোধ করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
‘জেন-জি রেভোলিউশন’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করেই সংগঠিত হয়েছিল। এখন সেই মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় তরুণেরা সরাসরি রাজপথে নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মান্ডালা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সংসদ ভবন এলাকাসহ পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হন। নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে শুধু বিক্ষোভকারীই নন, বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার কাঠমান্ডু উপত্যকাসহ দেশের আরও কয়েকটি বড় শহরে কারফিউ জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।