
ইবাদতের ক্ষেত্রে পবিত্রতা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে কুরআন তেলাওয়াত ও নামাজের মতো ইবাদতগুলোতে শরয়ি পবিত্রতার বিধান কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। নারীদের মাসিককালীন সময় (হায়েজ) এবং পুরুষ-নারী উভয়ের ক্ষেত্রে গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় কোন কোন ইবাদত করা যাবে এবং কোনগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে—এ বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। এসব দলিলের আলোকে হায়েজা ও অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতের বিধান নিচে তুলে ধরা হলো।
হায়েজা ও গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির জন্য কুরআন পড়া নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদিস তুলে ধরা হলো—
হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن
‘ঋতুবতী নারী এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কুরআন পড়বে না।’ (তিরমিজি ১৩১, দারেমি ৯৯১, মুসনাদুর রাবি ১১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৯০, মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৩৮২৩)
হজরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেন—
أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমর বিন হাযম-এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।’ (মুয়াত্তা মালিক ৬৮০, কানযুল উম্মাল ২৮৩০, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার ২০৯, আল মুজামুল কাবির ১৩২১৭, আল মুজামুস সাগীর ১১৬২, মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৫, দারেমি ২২৬৬)
হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
لا يمس القرآن إلا طاهر
‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। (মাযমাউজ যাওয়ায়েদ ১৫১২)
হায়েজা নারী এবং যার উপর গোসল ফরজ উক্ত ব্যক্তির জন্য তাসবিহ ও দোয়া-দরূদ পড়তে কোন সমস্যা নেই। তবে কুরআন তেলাওয়াত ও নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। সেই সঙ্গে রোজা রাখাও নিষিদ্ধ।
হজরত ইবরাহিম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন—
الحائض والجنب يذكران الله ويسميان
‘হায়েজ এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করতে পারবে, এবং তার নাম নিতে পারবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৩০৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৯৮৯)
সারসংক্ষেপে বলা যায়, হায়েজা নারীর জন্য কুরআন তেলাওয়াত ও নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ হলেও আল্লাহর জিকির, দোয়া ও দরূদ পাঠে কোনো বাধা নেই। ইসলাম মানুষের সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না; বরং পবিত্রতার বিধান রক্ষা করেই ইবাদতের অন্যান্য দরজা খোলা রেখেছে। তাই শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলার মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রকৃত কল্যাণ।